প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৫:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২১, ২০২৩, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগন্ঞ্জে ৬টির ভিতরে ৫টি তে নৌকা : একটিতে লাঙ্গলের জোয়ার

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই জোরেশোরে প্রার্থীরা ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, করছেন গণসংযোগ, সভা সমাবেশ। ভোট প্রার্থনায় প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করার পাশাপাশি দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরাই নৌকার বিপক্ষে ৪ টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
যারা প্রত্যেকেই নৌকা পেতে দলীয় মনোনয়নযুদ্ধে লড়াই করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন ৬৮ নেতা এবং জমা দিয়েছিলেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির মহাসচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চুন্নুর কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জন্য সর্বোচ্চ ২২ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন।
এরমধ্যে দুটি আসনে পরিবর্তন হলেও চারটিতেই মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্যরাই। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন বর্তমান দলীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম, এ ছাড়াও আসন দিক দিয়ে লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকবেন ডা. আব্দুল হাই। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লিপিকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, সৈয়দা রাফিয়ার নূর রুপা। প্রচার-প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শাফায়েতুল ইসলামের সাথে পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা আওয়ামী লীগ দলীয় কোন নেতা নির্বাচনী মাঠে নেই। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান এমপি সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নৌকার প্রার্থী ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এবারও বিজয়ী হতে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। নির্বাচনী উত্তাপ যতই বাড়বে আসনটিতে দলীয় নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষেই কাজ করবে এবং ভোট দেবে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাষণটিতে এবার ও নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার জোহর গুঞ্জন রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ। আসনটির বর্তমান সাংসদ সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ মনোনয়ন পাননি। এ আসনে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে থাকছেন ভোটের মাঠে। তাছাড়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান রঞ্জন ও এ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের পূর্ণ আবাস পাওয়া যাচ্ছে। নৌকার বিজয় কঠিন হবে বলে ধারণা করছে সাধারণ ভোটাররা।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আসনটি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠ গরম করবেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এডিসি মেজর (অব.) নাসিমুল হক। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় আসনটিতে টানা চতুর্থ বারের মত লাঙ্গন প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পুত্র প্রকৌশলী রেজওয়ান আহমেদ তৌফিকের প্রতিদ্বন্দ্বী তেমন কোন দৃশ্যমান প্রার্থী না থাকায় তিনি পুনরায় এমপি নির্বাচিত হচ্ছেন নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি মো. আফজল হোসেন। তিনি টানা তিনবার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে এবার আসনটি থেকে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় ভজন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। তাই এ আসনেও নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে এমনটাই ভাবছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। সাধারণ ভোটাররা বলছেন নির্বাচনের দিন যত গড়িয়ে আসছে তত নৌকার পালে হাওয়া লাগবে। আসনটিতে ভোটের ফলাফলে পুনরায় নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে বরাবরের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে লড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের পুত্র ও ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন। আসনটিতে নৌকার বিপক্ষে লড়ার মত শক্তপ্রার্থী না থাকায় এবারও তিনি বিজয়ী হবেন বলে দলীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের শতভাগ প্রত্যাশা।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাতে কেউ জিততে না পারে, আওয়ামী লীগ এমন কৌশল নিলেও কিশোরগঞ্জের চারটি আসনেই স্বতন্ত্রদের দাপট খুব একটা কাজে আসবে না। এমন অবস্থায় জেলার এই ৫টি আসনে নৌকা ও একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক ও নির্বাচন কৌশলী মহল।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.