মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : ঘরবাড়ি ছাড়া নেতা-কর্মীরা, দেশেজুড়ে ব্যাপক গ্রেফতার ও মামলায় জর্জরিত এখন বিএনপি
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে নোয়াখালী জেলা বিএনপি সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নোয়াখালী জেলায় বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জেলায় দেড় শতাধিক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা রজু করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৮ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
২৮ অক্টোবরের পর আরও মামলা হয়েছে ২৫টি গায়েবি মামলা দায়ের করে এখানেও আসামি করা হয়েছে অন্তত ১৫০০ নেতাকর্মী ও তাদের আত্মীয়দের। গ্রেফতার করা হয়েছে দেড় শতাধিক। এর মধ্যে অনেকে পূর্বে জামিনে থাকলেও তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশি অভিযান ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অভিযানের মুখে জেলার ১০ হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও জানান এ নেতা। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে না পেলে পুলিশ তাদের বাবা, ভাই এমনকি ভগ্নিপতিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের বাড়ি গিয়ে মা বোনদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছে। এমন কি চুলার ওপর থেকে রান্না করা ভাত ফেলে চুলা ভেঙে ফেলছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবিএম জাকারিয়া জানান, বর্তমানে কোর্টে এমন অবস্থা হয়েছে জামিনযোগ্য ধারায়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন মন্জুর করা হয় না। জামিনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদেরও গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ জানান, পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনী ও গ্রামে গঞ্জে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে।
মামলার লিস্টে ছেলের নাম আছে তাকে বাঁচিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিএনপির নেতা কর্মীদের আত্মীয়-স্বজনদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক শহিদুল্লা খান সোহেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাকে ধরছেন কাকে ছাড়ছে এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী যদি কারও সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মামলার আসামি ছাড়া সাধারণ মানুষকে হয়রানির কথা অসত্য। তবে কেহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে