
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জিয়াউর রহমান ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করার বৈধতা দিয়েছিল। এজন্য তাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দলগুলো অকৃতজ্ঞ হয়ে ধর্ম বেঁচে রাজনীতি শুরু করছে। জামায়াতের ভাব দেখে মনে হয় তারা ক্ষমতা চলে গেছে। কিন্তু জামায়াত ভুলে গেছে বিএনপি একটি হাতি। হাতি যখন লড়ে তখন পুরো দল নিয়ে লড়ে। জামায়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে দেশকে উত্তপ্ত করেছিল। যে কারনে গোটা দেশ জেগে উঠেছিল, একদিনেই দেশে বিশাল বিশাল মিছিল করে জবাব দিয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরের মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ড. ইউনুস ও তারেক রহমানের আলোচনার মধ্যদিয়ে একটি যুক্ত ইস্তেহার হয়েছে।
সেই ইস্তেহারে বলা হয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন হবে। আমরা আশা করব আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ড. ইউনুস বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমানের কাছে যে কমেটমেন্ট করেছেন তা থেকে তিনি দুরে সরে যাবে না। এই কমেটমেন্ট থেকে দুরে গেলে তার সম্মান থাকবে না। তাই আমি মনে করি আগামী ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন হবে।
তিনি আরো বলেন, ড. ইউনুস কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্নের জন্য। তারপরেই ঢাকায় হত্যার ঘটনা ঘটল। এরপরই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় মিছিল থেকে থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া হলো। এর পরদিনই জামায়াত সমাবেশে করে বিএনপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিল। মুলত দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারাসহ নির্বাচন বানচালের জন্য এটি ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গত ১৬ বছর যারা ত্যাগ-তিতিক্ষা, জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছে তাদেরকেই নেতা নির্বাচিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ত্যাগী কর্মী খুজে পাবে না। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করা যারা হামলা-মামলা রয়েছে তারাই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সাবেক এমপি এম.আকবর আলী ও কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা প্রমুখ।