হোম » অন্যান্য বিভাগ » চরিত্রহীন লোককে সবাই ঘৃণা করে, সমাজের কারো কাছে এদের দাম নেই

চরিত্রহীন লোককে সবাই ঘৃণা করে, সমাজের কারো কাছে এদের দাম নেই

মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি: প্রিয় মানুষদের কাতারে শামিল হতে চাইলে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া আবশ্যক। আমাদের সমাজে মানুষের সর্বোত্তম হওয়ার বিভিন্ন মাপকাঠি রয়েছে। বিভিন্নজনের কাছে ভিন্ন মাপকাঠিতে ভিন্ন ধরণের মানুষ সর্বোত্তম। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হচ্ছে- উত্তম চরিত্র।
মুমিনদের জন্য বিভিন্ন গুণাবলীতে চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করা ঈমানের দাবি। কেননা উত্তম চরিত্র ব্যতীত একজন মুমিনের ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না। ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য উত্তম চরিত্র অর্জন করা অপরিহার্য।
উত্তম চরিত্রের মাধ্যমেও যে অপরিসীম সওয়াব লাভ হয় তা আমরা অনেকে জানি না। এর সওয়াব এত বেশি যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। কেয়ামতের দিন মানুষের সওয়াব ও গোনাহ পরিমাপের জন্য মিজানে ওজন করা হবে। সেদিন যে আমলের ওজন সবচেয়ে বেশি ভারী হবে তা হলো- উত্তম চরিত্র।
উত্তম চরিত্রের সওয়াব ওজনে সবচেয়ে বেশি ভারী হওয়ার রহস্য আরেকটি হাদিস হতে জানা যায়। ওই হাদিসে উত্তম চরিত্রের সওয়াবের পরিমাণ বর্ণনা করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি সারা দিন রোজা পালন করে ও সারা রাত নফল নামাজ পড়ে যেরূপ সওয়াব পায় আল্লাহতায়ালা উত্তম চরিত্রের বদৌলতে সেরূপ সওয়াব দান করেন।
জান্নাতে মানুষের আমল অনুযায়ী সম্মানজনক জায়গায় অধিষ্ঠিত করা হবে। যার আমল যত ভালো হবে সে তত বেশি সম্মানিত হবে। উত্তম চরিত্র এমন ফজিলতপূর্ণ একটি নেক আমল হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে উত্তম চরিত্রবানদের জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে ঘরের জিম্মাদারী নিয়েছেন।
যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চস্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মামানব।
জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট গুণাবলির মধ্যে চরিত্র অন্যতম। এটি মানব জীবনের ভূষণ হিসেবে কাজ করে। কথায় আছে, ‘সম্পদ হারালে কোনো ক্ষতি হয় না, স্বাস্থ্য হারালে কিছুটা ক্ষতি হয় কিন্তু চরিত্র হারালে সব কিছুই খোয়া যায়।’
মানুষের জীবনে কাজে-কর্মে, কথায়-চিন্তায়, ওঠা-বসায়, আচার-আচরণে প্রতিটি ক্ষেত্রের পরিশুদ্ধ রূপকেই চরিত্র বলে। গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, সত্যনিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি গুণ যার মাঝে প্রকাশ পায় তাকে সচ্চরিত্রবান বলে মনে করা হয়। মানুষ জ্ঞানে ও কর্মে সকল প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ।
চরিত্রহীন লোককে সবাই ঘৃণা করে, সমাজের কারো কাছে এদের দাম নেই। এরা সমাজের কোনো উপকারে আসে না, বরং ক্ষতি করে। এ জন্য সবাই তাদের এড়িয়ে চলে। চরিত্র দোষেই তাদের স্থান হয় পশুস্তরে। পক্ষান্তরে চরিত্রবান লোক কেবল জীবনে মহত্ত্বই অর্জন করেন না, মৃত্যুর পরও তারা স্মরণীয় বরণীয় হয়ে থাকেন। সচ্চরিত্র বলে তারা সমাজ ও জাতীয় জীবনের অগ্রগতি ও উন্নতির পথে আলোকবর্তিকার মতো কাজ করেন মানুষের এ শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান সোপান হলো চরিত্র।
চরিত্র মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। বস্তুত চরিত্র যদি একবার নষ্ট হয়ে যায়,তবে সমাজে তার আর কোনো মূল্য থাকে না। এ চরিত্রই মানুষকে সুন্দরভাবে বিকশিত করে। মানুষের বিদ্যা-বুদ্ধি, ধন-ধৌলত যত কিছুই থাকুক না কেন, চরিত্রবান না হলে তারা কখনও দেশ ও জাতির কল্যাণ করতে পারবে না।
পরিপূর্ণ মানুষ হতে হলে তাকে সচ্চরিত্রবান হতে হয়। এজন্য প্রতিটি মানুষের সচ্চরিত্র ভালো মানস গঠনের সহায়ক আর ভালো মানস ভালো সমাজ ও জাতি গঠনের সহায়ক। চরিত্রহীন জনগোষ্ঠী জাতির উন্নতির অন্তরায়।সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য চরিত্রহীন লোকগুলোই মূলত দায়ী। তাই আমাদের সকলকে চরিত্রবান হতে হবে।মানবহৃদয়ে যখন নৈতিক চরিত্র সজীব থাকে তখন তা অন্তরের প্রতিটি প্রান্তকে আলোকিত করে সকল অন্ধকারকে দূরীভূত করে দেয় এবং সত্যের সোনালী সূর্যের আলোতে উদ্ভাসিত করে তোলে। আর এর প্রভাব গোমরাহীর তিমির-অন্ধকারকে তাড়িয়ে দেয়
নৈতিক চরিত্র গঠনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পূর্ণাঙ্গভাবে আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন কুরআনের আলোকে জীবন যাপন করা।  হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-কুরআনই হচ্ছে নবী (সা.)-এর চরিত্র।
মানব জীবনে চরিত্র অমূল্য সম্পদ। কোনো মূল্যেও এর পরিমাপ করা যায় না। চরিত্রের কারণেই মানুষ পশুত্ব থেকে মুক্তি পায়, অর্জন করে সত্যিকারের গৌরব ও মর্যাদা।তাই আসুন, আমরা সকলে রীতিমতো অর্থ বুঝে কুরআন পড়ি এবং সে অনুযাযী নিজেদের জীবনে তার অনুশীলন ও আমল করি। তবেই নৈতিক চরিত্র গঠন করা সম্ভব। আল্লাহ আমাদেরকে চরিত্রবান হবার তাওফিক দান করুন। আমীন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!