এম এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে এক মাসের ব্যবধানে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলায় কৃষক ও খামারীদের প্রায় অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লাম্পি স্কিন রোগ এ উপজেলায় দ্রুত বিস্তার লাভ করায়, প্রতিশেধক না থাকায় কৃষক ও খামারী বিপাকে পড়েছে ।
জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলায় কৃষক ও খামারীরা প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার গবাদি পশু লালন পালন করছে। কিন্তু গত এক মাস পূর্বে হঠাৎ করে এ উপজেলায় গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় ধীরে ধীরে এ রোগটি মহামারী আকার ধারণ করছে। ফলে কৃষকরা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে তাদের একমাত্র আয়ের উৎস্য গবাদি পশু নিয়ে।
গত একমাস যাবৎ লাম্পি স্কিন রোগে এ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামাঞ্চলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ উপজেলার প্রায় অর্ধশাধিক গবাদি পশুর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে উপজেলার কৃষক ও খামারীরা জানিয়েছেন।
লাম্পি স্কিন রোগে কোন গবাদি পশু আক্রান্ত হলে প্রথমে গরুর শরীরে গুটি গুটি দেখা দেয়, গায়ে জ্বর আসে, নাক ও মুখ দিয়ে লালা আসে এবং খাবারে রুচি থাকে না, গুটি গুলি ফেরে পচন ধরে। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এখন পর্যন্ত এ রোগের কোন প্রতিশেধ টিকা নেই। তবে আক্রান্ত গরুকে মশা মাছি থেকে দূরে রাখতে মশারী টাঙ্গানো, ক্ষতস্থানের যত্ন নিলে এ রোগ ভালো হয় বলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়।
পৌর এলাকার বন্তেঘরী গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান, কানুপুর গ্রামের শাহিন মিয়া, আফতাব হোসেন, আব্দুল ছায়েদ, সোবাহান আলী, মীরের চক গ্রামের পান্না মিয়া, ফরিদুল ইসলাম, কলুমগাড়ী গ্রামের শরিফুল ইসলাম, রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের তফু মিয়া, বেড়াবালা আকন্দ পাড়া গ্রামের আলম আকন্দ, মোকামতলা ইউনিয়নের আলোকদিয়ার গ্রামের জাকিরুল ইসলাম, জমশেদ আলী, জিন্নাহ মিয়া, রায়নগর ইউনিয়নের সেকেন্দ্রাবাদ গ্রামের মীর আলী সহ প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক ও খামারীদের গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়াল ঘরেই মারা যায়।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার গরু লালন পালন করে ছোট বড় খামারীরা। বর্তমানে লাম্পি স্কিন রোগের কারণে প্রতি মাসে ১৪-১৫ টি গরু উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। তিনি বলেন, গত ১ মাসে এ উপজেলায় প্রায় ২০টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে।