প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৪:৫৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ১৯, ২০২৩, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে সাগরে জেলেদের চুখে মুখে হাসি ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, বেচাবিক্রির ধুম

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার :কিছুটা প্রতিকূল আবহাওয়া কেটে গেলে সমুদ্র ফিরে গেছে মাছ ধরার বড় বড় ট্রলার। জেলেরা সাগরেই জাল ফেললেই ধরা পড়ছে ছোট -বড় রুপালি ইলিশ।
কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল ও ফিশারি ঘাটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। বিক্রিও হচ্ছে চড়াদামে। এক প্রকার ইলিশ মাছ বিক্রির ধুম পড়েছে। কাক ডাকা ভোর থেকে চলছে মাছ বিক্রি।
ট্রাক বোঝাই করে ইলিশ চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। ইলিশ ধরতে সাগরে অবস্থান করছে টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়াসহ জেলা শহরের ছোট–বড় প্রায় ছয় হাজার ট্রলার।
জেলেরা জানান, কক্সবাজার উপকূল থেকে ৮০-১০০ কিলোমিটার দূরে ( পশ্চিমে) গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা মিলছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে গভীর সাগর থেকে ঝাঁক বেঁধে ওই ইলিশ উপকূলের কাছাকাছি ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে চলে আসতে পারে। তখন বিপুলসংখ্যক ইলিশ ধরা পড়বে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, শহরের বাঁকখালী নদীর ফিশারি ঘাটে পাইকারি ইলিশ বিক্রির বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ জেলার টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন উপকূলে দৈনিক প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ আহরিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ইলিশ মাছ।
জাল ফেললেই ধরা পড়ছে ইলিশ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের বাঁকখালী নদীর ফিশারি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গভীর সাগর থেকে ইলিশ নিয়ে ফিরেছে ২৩টির বেশি ট্রলার। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে পাঁচ শ থেকে তিন হাজার কেজি ইলিশ ধরা পড়েছে। ইলিশের সঙ্গে রূপচাঁদা, লাক্ষা, কোরাল, গুইজ্যা, চাপা, মাইট্যা, কামিলা, পোপা মাছও ধরা পড়েছে প্রচুর। ছোট ডিঙিনৌকায় ভরে ট্রলারের মাছ পাশের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এনে চলছে বেচাবিক্রি।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ২ হাজার ৬০০টি ইলিশ বিক্রি করে ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের জেলেরা। অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি। ট্রলারের মাঝি (সারেং) বশির আহমদ (৫৫) প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগরের ৮০-৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে পৌঁছে জাল ফেলে তাঁরা এই ইলিশ ধরতে পেরেছেন। গভীর সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া–আসায় তাঁদের সময় লেগেছে ছয় দিন। প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা দামে। আরও ইলিশ ধরতে ট্রলার নিয়ে আজ রাতেই সাগরে ছুটবেন এই ট্রলারের ২১ জেলে।
সরেজমিন শহরের পাইকারি মাছ বিক্রির প্রধান বাজার ফিশারি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে (পাইকারি) ৮৫০ টাকায়। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০-৭০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ফিশারিঘাটের এই বাজার থেকে ৬ মেট্রিক টন ইলিশবোঝাই কয়েকটি ট্রলার ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বেলা তিনটা নাগাদ ইলিশবোঝাই আরও কয়েকটি ট্রাক রওনা দিয়েছে।
কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে দৈনিক ৫০০ থেকে ২ হাজার ট্রলার মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরবে। তখন মাছের দাম অনেক কমে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ১০ আগস্ট থেকে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে নামতে শুরু করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে জেলার ছয় হাজার ট্রলার ইলিশ ধরতে সাগরে নেমে পড়বে। ইলিশ আহরণ বেড়ে গেলে ১ লাখ ৩০ হাজার জেলে-শ্রমিকের অভাবও দূর হবে। এবং জেলে পরিবারে চলবে খুশির আমেজ।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.