প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৩:০১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৯, ২০২৩, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
গো চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় সিরাজগঞ্জের গো-খামারীরা

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদনকরী এলাকা হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রেশমবাড়ি।
এখানেই রয়েছে দেশের সবৃবৃহৎ গো চারণ ভূমি। এখাকার গবাদি পশুগুলোকে সারা বছরই কাঁচা ঘাষ সমৃদ্ধ গো-চারণ ভূমিতে রেখে লালন পালন করা হলেও বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় খামারিদের। বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো চারণ ভূমি।
ফলে গবাদি পশুগলোকে শুকনো খাবার খাওয়াতে হচ্ছে খামারিদের। সেই সাথে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ বালাই। এতে লোকসান গুণতে হচ্ছে খামারিদের। তবে খামারিদের কে লোকসানের হাত থেকে রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ।
১৯৭৩ সালে সমবায় ভিত্তিক রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরন কারাখানা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে গড়ে উঠে শত শত গরুর খামার। এখানেই রয়েছে দেশের সবৃবৃহৎ গো চারণ ভূমি। এখানকার গবাদি পশু সারা বছরই খামার সংলগ্ন গো-চারণ ভূমিতে রাখা হলেও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই দুশ্চিন্তায় পরে এখানকার খামারিরা।
বর্ষায় পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো সবুজ চারণ ভূমি। এই সময়ে খামারিদেরকে গবাদিপশুগুলো বাড়িতে রেখে শুকনো খাবার খাওয়াতে হচ্ছে। তিন থেকে চার মাস পানি থাকায় শুকনো খড় আর দানাদার খাদ্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। শুকনো খাবার খাওয়ানোই কমে গেছে দুধের উৎপাদন।
রেশন বাড়ির খামারি আশরাফ আলী জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। এ সময় কাচা ঘাস তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুগুলোকে শুকনো খাবার খাওয়াতে হয়। তবে বর্তমানে দানাদান গো খাদ্যের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধিতে গরু পালনে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
আরেক খামারি নজরুল ইসমাল বলেন, বর্ষা মৌসুমের তিন মাস আমরা আমাদের গরুগুলোকে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে পারিনা। এ সময় সব গরুকেই শুকনো খাবার খাওয়ানো হয়। এতে দুধের উৎপাদন অনেকটাই কমে যায়। সেই সাথে এই সময়ে দেখা দেয় বিভিন্নরোগ বালাই।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, বর্ষার এই সময়টায় গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ পাশপাশি দুধের উৎপাদনবৃদ্ধি সহ খামারিদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে খামারিদের শুকনো খাবারের উপর নির্ভরশীল না হয়ে গবাদি পশুগুলোকে সাইলের জাতীয় খাবার খাওয়ানোর কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্যমতে জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট খামারের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। আর মোট গাভীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত লাখ লিটার দুধ পাওয়া যায়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.