প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১২:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২২, ২০২৩, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে

শাহজাহান সাজু (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই লিচু বাগান আর লিচু বাগান।
প্রতিটি গাছের দিকে তাকালে শুধু লাল টুক-টুকে রসে ভরা লিচু আর লিচু। জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে এ মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের অবস্থান। এ কারণেই এ গ্রামের নামের সাথে লিচুরও নামকরণ করা হয়েছে ‘মঙ্গলবাড়িয়া’ লিচু।
জৈষ্ঠ্য মাসের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় লিচু বিক্রির ব্যস্ততা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ লিচুর চাহিদা এখন দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারেও। মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার লিচুর খ্যাতি এখন দেশজুড়ে।
কিশোরগঞ্জ জেলা জুরে এখন বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজারগুলোতে চলছে লিচু বিক্রির ধুম।এ লিচুর স্বাদ বাজারে অন্যান্য লিচুর চেয়ে ভালো। পাশাপাশি মঙ্গলবাড়িয়া লিচু আগাম জাতের হওয়ায় অন্যান্য লিচু বাজারে আসার ১৫ দিন আগেই বিক্রি শুরু হয়।
তাই মৌসুম এলেই জেলার সবকটি উপজেলার মানুষসহ দূর-দূরান্ত থেকে এ গ্রামে ছুটে আসেন লিচুপ্রেমী পর্যটকরা।নরসিংদীর মনোহরদী থেকে আসা সুরাইয়া বেগম বৃষ্টি বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত এ লিচুর গ্রামে ৪বার এসেছি। গ্রামে ঢোকার পর থেকে যেদিকেই তাকাই; সেদিকেই গাছে লাল রঙের রসালো লিচু ঝুলছে। সারাদিন ঘুরে ঘুরে দেখব আর লিচু খাব। পরিশেষে বাড়িতে কিনে নিয়ে যাব।’
জেলার হোসেনপুর উপজেলা থেকে আসা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মৌসুম এলেই অন্যান্য জেলার আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি পাঠাতে এবং নিজের পরিবারের জন্য মঙ্গলবাড়ীয়া লিচু কিনতে আসি। পাশাপাশি পরিবারের সবাই মিলে এমন চোখ জুড়ানো মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতেও ছুটে আসা হয় একটা দিন সময় করে।
দুই'শ লিচু কিনলাম, প্রতিশ’ লিচুর দাম নিলো ৬শ টাকা করে।অন্যান্য বছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী ‘মঙ্গলবাড়িয়া’ লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। দেখতে লাল টুকটুকে ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এ লিচুর খ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশে। চলতি মৌসুমে ৩০ হাজারেরও বেশি গাছ থেকে ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা এ গ্রামের চাষিদের।
লিচু চাষী মো. ছফির উদ্দিন জানান, আমার ২শ লিচুগাছ রয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে এবার। বিক্রি শুরু করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ১০ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি হবে। আমাদের লিচু বাজারে নিতে হয় না। পর্যটকরা যারা ঘুরতে আসেন এখানে তাদের কাছেই বেশিরভাগ লিচু বিক্রি হয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. সাইফুল হাসান আল-আমিন জানান, এ বছর মঙ্গলবাড়ীয়া গ্রামে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার আমরা দেশের চাহিদা পুরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করব। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লিচু চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
আগাম জাতের লাভজনক এ ‘মঙ্গলবাড়িয়া’ লিচুর আবাদ সমস্ত জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.