আওয়াজ অনলাইন: নেত্রকোণায় প্রতিবন্ধী কার্ডের আশায় সুদে এক হাজার টাকা এনে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দেন ফরিদা আক্তার (৪৫)। কিন্তু এক বছর পার হলেও মেলেনি কার্ড। এদিকে কার্ড না করে আরও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন ওই ইউপি সদস্য। এ ঘটনার বিচার চেয়ে বুধবার (১৭ মে) আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ফরিদা।
কথা ছিল কার্ডের জন্য ৩ হাজার টাকা দেয়ার। কিন্তু অন্যের বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করা ফরিদার পক্ষে বাকি টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এক বছরেও কার্ড হয়নি তার।
ভুক্তভোগী নারী ফরিদা আক্তার নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার শুনুই ইউনিয়নের চাষাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র এখলাছ মিয়ার স্ত্রী। তার ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। আর অভিযুক্ত সালমা আক্তার উপজেলার শুনুই ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।
ফরিদা আক্তার জানান, আমার এক হাত ও এক পা অনুভূতিহীন, এক কানে কম শুনি। আমার দশ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। পেটের দায়ে অন্যের বাড়িতে রান্নাবান্না করে দিন যাপন করি। স্বামীও কাজ কাম করতে পারে না। তাই, একটা প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য সালমা আক্তারের শরণাপন্ন হই। তিনি আমাকে তিন হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। পরে এক হাজার টাকা এক বছর আগে ঋণ করে এনে তার হাতে তুলে দেই । কষ্টের সংসার হওয়ায় বাকি দুই হাজার টাকা আর জোগাড় করতে পারিনি। তাই, আমার কার্ডও করে দেননি।
তিনি আরও জানান, এক বছরে সুদের টাকা কয়েকগুণ হয়েছে। শুনেছি প্রতিবন্ধী কার্ড নাকি বিনামূল্যে হয়। তাই, এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সালমা আক্তার জানান, অভিযোগকারী ফরিদা আক্তার কোনো প্রতিবন্ধী নয়। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। তাহলে তার কার্ড হবে কি করে? আর অভিযোগটি অন্য কারও প্ররোচনায় করেছেন তিনি। তাকে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলিনি। তাই, টাকা নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ইউএনও কার্যালয় থেকে আমাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে উভয় পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে, ফরিদা আক্তার যদি সত্যি প্রতিবন্ধী কার্ড পাওয়ার যোগ্য হন তাহলে তাকে একটি কার্ড করে দেয়া হবে। টাকা বিনিময় না করে তার (ফরিদা) উচিত ছিল শুরুতেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পরে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।