প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৮:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৮, ২০২৩, ২:৩৪ পি.এম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: জাতীয় চার নেতার অন্যতম একজন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার যশোদল ইউনিয়নে বীরদামপাড়া গ্রামে ১৮ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম পুরুষ, যার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে।
যিনি ১৯৭১ এর ১৭ এপ্রিল থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের পর সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রথমে গৃহবন্দি এবং ২৩ আগস্ট, ১৯৭৫ তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়৷
পরে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিবারের সদস্যরা ছিল দিকহারা। দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির স্ত্রী সৈয়দা নাফিসা ইসলাম ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ও সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম, সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এবং সৈয়দা রাফিয়া নূর রূপা। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরাধীনতার শৃংখলমুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ও তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাঙ্গালী জাতিকে দিয়েছেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ আবাসভূমি। তার জীবদ্দশায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও তার জন্মভূমি তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহুকুমা নিরাপদ ছিল, সুরক্ষিত ছিল।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের জোষ্ঠ্য পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখানে তিনি যুক্তরাজ্যের পুরোনো রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং লেবার পার্টির সদস্যও হয়েছিলেন।প্রবাস জীবনে তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার পর দলের হাল ধরেন। ১/১১ পরবর্তী পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যখন কারাগারে তখন যুগ্ম সাধারণ আশরাফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি সংকটের মুখে পড়া আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।২০০৯ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে ওই জাতীয় সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
পরপর দুই বার তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।আওয়ামী লীগের পরবর্তী সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফকে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়।২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন দায়িত্ব পান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। পরে ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি ২০১৯) তার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল।
ওই দিনই তিনি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৪ জানুয়ারি তার নিথর দেহ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে এসে পৌছালে লক্ষ লক্ষ জনতা তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করে। সেদিন কিশোরগঞ্জে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণে শোলাকিয়া ময়দানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যতদিন অধিষ্ঠিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলাদেশে আওয়ামী রাজনীতির নিরাপদ বলয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি যতদিন কিশোরগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন (সদর-হোসেনপুরের) সর্বসাধারণ নিরাপদে ছিল, সুরক্ষিত ছিল গ্রুপিং লবিং মুক্ত ছিল।বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ ১ (সদর-হোসেনপুর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হলে।
২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনঃনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সৈয়দা লিপি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত কান্ডারী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুরের সর্বসাধারণের আস্তা ও ভরসার স্থল হয়ে ওঠেন। পিতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মরহুম বড় ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নীতি ও আদর্শকে পুঁজি করে গ্রুপিং-লবিং দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে থেকে নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতাকর্মী এবং সর্বসাধারণের সাথে তৈরি করেছেন আত্মার সুসম্পর্ক।
তার নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনে সবসময় নিজেকে স্বতন্ত্র রেখেছেন। নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। নির্বাচনী এলাকার গ্রাম থেকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলার তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের পছন্দ ও ভরসার স্থল সৈয়দ পরিবারের সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নুর লিপি এমপি।
সৈয়দ আশরাফের অবর্তমানে তার বোন এমপি হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুরের সর্বসাধারণকে নিরাপদে রেখেছেন, সুরক্ষিত রেখেছেন।ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটা দলীয় কর্মী ও সর্বসাধারণ নিরাপদে থাকবে, সুরক্ষিত থাকবে।।
নির্বাচনী এলাকার নেতা কর্মীরা মনে করেন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি কে মনোনয়ন দিলে এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সুস্থ ধারার রাজনীতি অব্যাহত থাকবে। সৈয়দ পরিবারের সদস্য ব্যতীত অন্য কোন প্রার্থী হয়ে আসলে অসুস্থ রাজনীতির ধারা চালু হতে পারে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বসাধারণ অবহেলিত ও কোণঠাসায় পড়তে পারে।
যাহাতে করে দলীয় কোন্দল গ্রুপিং লবিং অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর কন্যা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি কে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় (কিশোরগঞ্জ ১) আসনে নৌকা প্রতীক দেয়ার জন্য দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। কিশোরগঞ্জ ১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের এমপি পদ সৈয়দ পরিবারেই সুরক্ষিত।