
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান: অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে আসন্ন ২০২৬-২০২৭অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকগণ।
আজ ১১ মে ২০২৬, সোমবার,বেলা সাড়ে এগারোটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত "অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের কার্যকর দাম বৃদ্ধি: চিকিৎসকদের বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২০২৭" শীর্ষক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) অধ্যাপক মোঃ ইউনুছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ অরুনা সরকার। প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হলো তামাক। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক নরনারী তামাক গ্রহন করে এবং প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাক জনিত রোগে অকালমৃত্যু বরণ করে ।এছাড়া তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ।
সভায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্রিত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম লেভেলের সিগারেটের মূল্য যথাক্রমে ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান তামাক কর কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অকার্যকর। সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর থাকায় ব্যবহারকারীরা সহজেই কমদামি স্তরে চলে যেতে পারেন।ফলে তামাকের ব্যবহার কমছে না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দামের ব্যবধান কম হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধুমপান নিরুৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডাঃ মুশতাক হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত কর ও মূল্য সংস্কার বাস্তবায়ন হলে একদিকে তামাকপণ্যের ব্যবহার কমবে, অপরদিকে সরকার প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে পারবে।এই অতিরিক্ত অর্থ স্বাস্থ্য খাত সংস্কার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ব্যয় করা সম্ভব হবে।
সমাপনী বক্তব্যে ব্রিগেঃ জেনারেল (অব:)অধ্যাপক মোঃ ইউনুছুর রহমান বলেন, তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ বিশ্বব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর ও পরীক্ষিত পদ্ধতি। কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাক পণ্যের দাম বাড়ানো হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ধুমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি তরুণ ধুমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন,তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার মোঃ আবু জাফর প্রমুখ।