
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানপন্থী শক্তির পুনরুত্থান গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও একটি পরাজিত ও ইতিহাসবিরোধী আদর্শ কীভাবে আবারও রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা জাতির জন্য নিঃসন্দেহে অশনিসংকেত।
ইতিহাস আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি কখনোই তৎকালীন পূর্ববাংলা বা আজকের বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত ছিল না। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি অধ্যায়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন, শোষণ ও নিপীড়নের চিত্র সুস্পষ্ট। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই পাকিস্তানি রাষ্ট্রচিন্তা ও তার সহযোগী শক্তিগুলোর আদর্শ আজও কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে লালিত হচ্ছে। পাকিস্তানপন্থীরা ইতিহাস বিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আবরণে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক মতভেদ নয়; বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক চেতনার বিরুদ্ধে একটি প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তান ও পাকিস্তানপন্থী শক্তিগুলো বাস্তবে কখনোই বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু হতে পারে না—এ সত্য ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। তারা কখনো এ দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার কিংবা সামাজিক অগ্রগতির পক্ষে অবস্থান নেয়নি। বরং সংকটময় মুহূর্তে তারা সবসময়ই এ দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার ভূমিকা পালন করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব হলো ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং যে কোনো ধরনের পাকিস্তানপন্থী অপচেষ্টা রুখে দেওয়া। জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্য দিয়েই এ ধরনের শক্তির মোকাবিলা সম্ভব।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং স্বাধীনতার মূল আদর্শকে প্রশ্নহীনভাবে রক্ষা করতে হবে। এটাই সময়ের দাবি, এটাই জাতির দায়িত্ব।
লেখক: শাহজাহান সিরাজ সবুজ, কলামিস্ট ও সাংবাদিক।

আরও পড়ুন
ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী বাজেটই টেকসই অর্থনীতির রূপরেখা
“অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের উপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব চিকিৎসকদের”
কোটি টাকার যুগে এক হাজার টাকার নোট এখন অনেকটাই অপ্রতুল মনে হচ্ছে