JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

৮২ কেজি ওজনের এক বাঘাইড় মাছের দাম হাকা হয় এক লক্ষ টাকা!

রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: শুধু মাছ আর মাছে ছেয়ে গেছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শুরু মেলার প্রধান আর্কষণ ছিল ৮২ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ। এই মাছের দাম হাঁকা হয় প্রতি কেজি ১ হাজার ২২০ টাকা। করে ৮২ এক লক্ষ টাকা! পোড়াদহ মেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন লোকজ মেলা।

বগুড়া জেলা শহর হতে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ নামক স্থানে বসা মেলা প্রতি বছর “পোড়াদহ মেলা” নামে পরিচিত। বাংলাদেশে যে কয়টি গ্রাম্য মেলা পুরাতন জৌলুষ নিয়ে সগর্বে টিকে আছে তার মধ্যে বগুড়ার ‘পোড়াদহ মেলা’ অন্যতম। প্রায় চার শত বছর পূর্বে শুরু হওয়া মেলাটি আজও তার পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

মেলাটি প্রবর্তিত ১৬শ শতাব্দীতে। পোড়াদহ মেলা, যাকে বলা হয় ঐতিহাসিক পোড়াদহ মেলা শুরুর সঠিক সাল জানা যায় না। তবে বলা হয় বর্তমান সময় থেকে প্রায় চারশত বছর পূর্বে কোন এক সময়ে মেলা সংগঠনের স্থানে একটি বিশাল বটবৃক্ষ ছিল। একদিন হঠাৎ করে সেখানে এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব হয়। তারপর সেখানে দলে দলে সন্ন্যাসীরা এসে একটি আশ্রম তৈরি করে।

এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে সেটি একটি পূণ্য স্থানে পরিনত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ দিনের কাছের (শেষ দিনের পূর্বের অথবা শেষ দিনের পরের বুধবার) সন্ন্যাসী পূজার আযয়োজন করে। দুরদুরান্ত থেকে ভক্তরা প্রতি বছর সেই দিনটিতে এসে সমাগত হতে থাকে। দিন গড়ানোর সাথে সাথে প্রতিবছর লোকসমাগম বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে পূজার দিনটিতে একটি গ্রাম্য মেলার গোড়াপত্তন হয়। এক সময় সন্ন্যাসীরা স্থানটি ত্যাগ করে চলে গেলেও হিন্দু সম্প্রদায় সন্ন্যাসী পুজাটি বন্ধ করে দেয়নি। ধীরে ধীরে মেলাটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। দুর দুরান্ত থেকে মেলা দেখতে লোকজন আসে।

পুজা পার্বণ মুলত হিন্দু সম্প্রদাযয়ের উৎসব হলেও এই মেলা ধর্মের গন্ডি পেরিযয়ে সব ধর্মের মানুষকে উৎসবে একত্র করে। এখন সন্ন্যাসী পুজাটি চালু থাকলেও সকল ধর্মের হাজার হাজার মানুষ মেলাতে এসে উপস্থিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার হয়ে গেল পোড়াদহ মেলা।

 

নামকরণের ইতিহাস : রসন্ন্যাসী পুজা উপলক্ষে মেলাটি শুরু হয়েছিল তাই এর নাম প্রথম অবস্থায় ছিল সন্ন্যাসী মেলা। মেলাটি পোড়াদহ নামক স্থানে সংগঠিত হয়। লোক মুখে স্থানের নাম অনুসারে পোড়াদহর মেলা হিসাবে চলতে চলতে এক সময় এর নাম পোড়াদহ মেলা হিসাবে প্রচলিত হয়। মেলা উপলক্ষে আশেপাশের গ্রামের যেসব মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে তারা জামাই নিয়ে বাপের বাড়িতে হাজির হয় বলে অনেকে একে ‘জামাই মেলা’হিসাবে সম্মোধন করেন।

আবার মেলায় বড় বড় হরেক প্রজাতির মাছই এখন এ মেলার বড় আকর্ষণ। মেলায় পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির হরেক রকমের বড় বড় মাছ। বড় বড় মাছগুলো প্রথমে ভোর বেলায় মেলায় স্থাপিত অস্থায়ী আড়ৎগুলোতে এসে জমা হয়। সেখান থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা মাছগুলো কিনে মেলার নিজ নিজ দোকানে নিয়ে যায়। দোকানগুলোতে দিনভর কেনাকাটা চলতে থাকে। মেলায় আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, সিলভার কার্প, কালবাউশ, পাঙ্গাস মাছ ইত্যাদি। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রয় হয় ‘বাঘা আইড়’ মাছ স্থানীয়ভাবে যাকে ‘বাগাইড় মাছ বলা হয়।

মেলায় দুই মন থেকে আড়াই মণ ওজনের বাঘা আইড় পাওয় যায। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি কাতলা ৫০০-৫৫০ টাকা, বাঘাইড় ৮০০-৯০০ টাকা, রুই ৪৫০-৫০০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০-৩৫০ টাকা, বিগহেড ২৫০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে মাঝারি আকারের মাছের প্রতি ক্রেতা সাধারণের খানিকটা ঝোক বেশি। কারণ সাধ্যের মধ্যে এসব আকারের মাঝ মেলানো যায়।

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

সিরাজগঞ্জে বিরল প্রজাতির মদন টাক পাখি উদ্ধার 

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে বিরল প্রজাতির একটি মদন টাক পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ...

error: Content is protected !!