JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

জেনে নিন আমাদের জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ ও রঙ

আওয়াজ অনলাইন : বাঙালির হূদয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসায় কখনো ঘাটতি ছিল—এ কথা তাদের চরম শত্রু ও কখনো জোর দিয়ে বলতে পারবে বলে মনে হয় না। এই অপরিসীম দেশপ্রেমের জন্যই জাতিগতভাবে বাঙালি এবং ব্যক্তিগতভাবে একজন বাংলাদেশি বলে গর্ববোধ হয়।

কিন্তু তখনই বেশ কষ্ট লাগে যখন দেশের প্রতি উপচেপড়া ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা জ্ঞাপনকে অসম্মান বা অবমাননার পর্যায়ে নিয়ে যায়। এর জন্য আমাদের অজ্ঞতা বা অসচেতনতাই দায়ী। জাতীয় পতাকা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা একটি স্বাধীন দেশ পাই এবং স্বাধীন দেশের স্বাধীন পতাকা উত্তোলন করি। কিন্তু আমরা এই পতাকা ব্যবহারের অনেক নিয়মকানুন সঠিকভাবে জানি না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পতাকা ব্যবহারের কিছু নীতিমালা তৈরি করেছিল ১৯৭২ সালে, যা পরে ২০১০ সালে পুনরায় চূড়ান্ত করা হয়। বিশেষ করে পতাকা উত্তোলনের জন্য কিছু নীতিমালা আছে যেমন-

পতাকার মাপ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় দেশে বিভিন্ন মাপের পতাকা দেখা যায়। জাতীয় পতাকার মাপ হবে ১০: ৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তাকার ক্ষেত্রের গাঢ় সবুজ রঙের মাঝে লাল বৃত্ত এবং বৃত্তটি দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যসার্ধবিশিষ্ট হবে। ভবনে ব্যবহারের তিন ধরনের মাপ হচ্ছে ১০ ফুটx৬ ফুট, ৫ ফুট x৩ ফুট, ২.৫ ফুট /১.৫ ফুট। তবে অনুমতি সাপেক্ষে ভবনের আয়তন অনুযায়ী এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ঠিক রেখে বড় আয়তনের পতাকা প্রদর্শন করা যাবে। গাড়িতে ব্যবহারের জন্য মাপ হচ্ছে ১৫ ইঞ্চিx ৯ ইঞ্চি, ১০ ইঞ্চি x৬ ইঞ্চি।

* যেকোনো ভবন বা দালানকোঠায় ব্যবহারের জন্য ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট, ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট।
* মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো—১৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি, ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।
* আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হলো—১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।

এখানে উল্লেখ্য, সরকার ভবনের আয়তন অনুযায়ী এবং প্রয়োজনে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ঠিক রেখে বড় আয়তনের পতাকা প্রদর্শনের অনুমতি প্রদান করতে পারবে।

উল্লেখযোগ্য কিছু বিশেষ দিবস আছে, যখন সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিসে পতাকা অবশ্যই উড়াতে হবে। এই দিবসগুলো হলো—

* মহানবীর জন্মদিন (ঈদ এ মিলাদুন্নবী)
* স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ)
* বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর)
* সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোনো দিন

এছাড়া শহীদ দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারি) এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোনো দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান আছে। তাই উল্লিখিত দিনের শেষভাগে আমাদের উচিত জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলা। অন্যথায় অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে জাতীয় পতাকার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন হয়ে যেতে পারে।

ইচ্ছা করলেই যে কেউ গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করতে পারে না। কোন কোন ভবনে ও কারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারবেন, এ সম্পর্কে ওই আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও অফিসে সব কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ৬ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে, নৌযানে ও বিমানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারবে। এ ছাড়া স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রী সমমর্যাদার ব্যক্তি, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের প্রধানের গাড়িতে ও তাদের নৌযানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উপমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজধানীর বাইরে ভ্রমণকালে গাড়িতে ও নৌযানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

জাতীয় পতাকা আইন ভঙ্গে শাস্তি-

জাতীয় পতাকার জন্য এই আইন ১৯৭২ সালে প্রণীত হলেও ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত এই আইন অমান্যকারীদের জন্য কোনো শাস্তির বিধান ছিল না। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ২০ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি নতুন বিল পাস হয়, যার দ্বারা এই আইনে শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়। পাস হওয়া সেই বিলে আইন অমান্যকারীদের জন্য ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তির বিধান রাখা হয়।
/এইচ.

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

বগুড়ার শেরপুরে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত

এম. এ. রাশেদ বগুড়া প্রতিনিধিঃ এখনই সময় অঙ্গিকার করার, যক্ষা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার” এই প্রত্যায় নিয়ে ...

error: Content is protected !!