JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
সংবাদ শিরোনাম:

ভৈরব রেলস্টেশন থেকে চুরি হওয়া কম্বল বাজার থেকে উদ্ধার

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : চট্রগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ভৈরবে বুকিং দেয়া কম্বলের কার্টুন ভৈরব স্টেশন থেকে গায়েব হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভোক্তভোগি ব্যবসায়ী রেনু মিয়া। গায়েব হওয়ার ৬দিন পর ভৈরব বাজারের একটি দোকানে বিক্রিকালে হাতেনাতে একজনকে আটকের পর বেরিয়ে আসে এসআই হুমায়ুন সহ জড়িতদের নাম।

ভৈরব রেলওয়ে বুকিং অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত ১ নভেম্বর চট্রগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে প্রেরক হানিফ মিয়া ভৈরব বাজারের ব্যবসায়ী রেনু মিয়া নামে ৯টি কম্বলের কার্টুন বুকিং দেয়। কম্বলের কার্টুন গুলো নাসিরাবাদ ট্রেনে ওইদিন রাতেই ভৈরব স্টেশনে পৌঁছার পর স্টেশন থেকেই একটি কার্টুন গায়েব হয়ে যায়। কিভাবে একটি কার্টুন গায়েব হলো তা বলতে পারছেনা ষ্টেশনে মালামালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। পরের দিন প্রাপ্রক রেনু মিয়া তাঁর কম্বলের ৯টি কার্টুন নিতে আসলে প্রাপককে ৮টি কার্টুন দিয়ে বিদায় করেন ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশনের লেবার সর্দার আফজালুর রহমান টিটু।

বুকিংকৃত মালামাল লেবার সর্দার নামীয় মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার নিয়ম থাকলেও দায়িত্ব অবহেলার কারণে স্টেশন থেকে কম্বলের কার্টুন গায়েব হয়ে যায় বলে অভিযোগ ভোক্তভোগির। কার্টুন গায়েব হওয়ায় বিষয়টি ব্যবসায়ী রেনু মিয়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অবগত করেন।

ভোক্তভোগি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে গায়েব হওয়া কম্বল গুলো গত ৭ নভেম্বর বুধবার ভৈরব বাজারে রেনু মিয়ার দোকানের পাশেই মজিব গার্মেন্টস নামে একটি কম্বলের দোকানে বিক্রির জন্য কম্বলের সেম্পল নিয়ে আসে। এসময় কম্বলের সেম্পল দেখে মালিক রেনু মিয়ার সন্দেহ হয়। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে ওই বিক্রেতাকে আটক করে। পরে আটককৃত যুবক ভৈরব পৌর নিউমার্কেটের ৩ তলায় ১৪১নং দোকান স্টাইল জোনের মালিক মো: বাক্কি মিয়া তাকে ২০টি কম্বল প্রতিটি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করার জন্য তাকে দেয়া হয় বলে স্বীকার করেন। পরে ওই যুবককে নিয়ে স্টাইল জোনের মালিকের কাছে গেলে বাক্কি মিয়া ভৈরব থানার এসআই হুমায়নের নাম বলেন। কম্বল গায়েবের ঘটনাটি ভৈরব বাজারের মানুষের মুখে মুখে মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ী রেনু মিয়া ও রিমন সাংবাদিকদের জানান, স্টেশন থেকে গায়েব হওয়া কম্বল গুলো ভৈরব বাজারে বিক্রিকালে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তারা জানতে পারে গায়েব হওয়া কম্বল এসআই হুমায়ুন ও তাঁর সোর্স ফয়সাল মিলে স্টাইল জোনের মালিক বাক্কির লোক দিয়ে মজিবুর রহমানের দোকানে পাইকারি বিক্রি করতে চেয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের নিয়ে স্টাইল জোন থেকে কস্বল গুলো উদ্ধার করি। কম্বল গায়েব হওয়ার নেপথ্যে এসআই হুমায়ূন ও তাঁর সোর্স ফয়সাল জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হতভম্ব হন।

স্টাইল জোনের মালিক বাক্কি মিয়া সাংবাদিকদের জানান, এসআই হুমায়ুনসহ থানার বেশিরভাগ অফিসাররাই তাঁর দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করার সুবাদে সম্পর্ক হয়। গত শনিবার এসআই হুমায়ুন তাকে কিছু কম্বল বিক্রি করে দিতে বললে সে তাঁর লোক দিয়ে প্রতিপিস ৩২০টাকা দরে বিক্রি করতে পারবে বলে এসআইকে জানায়। পরে সোমবার ওই এসআই তার সোর্স ফয়সালকে দিয়ে তাঁর দোকানে কম্বল গুলো পাঠায়।
এঘটনার বিষয়ে লেবার সর্দার আফজালুর রহমান টিটু রেলওয়ে স্টেশন থেকে কম্বলের কার্টুন গায়েব হযনি বলে দাবি করেন এবং সাংবাদিকদেরকে নিউজ না করার জন্য বলেন। তিনি কম্বলের ৯টি কার্টুনই মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং ভ্যান গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে কার্টুন চুরি হয়েছে বলে বিষয়াটি অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করেন সাংবাদিকদের নিকট।

এ ব্যাপারে ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কিশোর নারায়ণ চৌধুরী বলেন, বুকিংয়ে আসা মালামাল লেবার সর্দার প্রাপ্রককে বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব। চট্টগ্রাম থেকে আসা কম্বলের ৯টি কার্টুনের মধ্যে ৮টি বুঝিয়ে দেয়া হয় মালিককে। ১টি কার্টুনের হদিস না পাওয়া রেজিষ্টার খাতায় ৮টি লিপিবদ্ধ করা হয়। গায়েব হওয়া কম্বল গুলো বুধবার ভৈরব বাজারে থেকে উদ্ধার হওয়ার পর বাকী একটি কার্টুন রেজিষ্টারে গতকালই সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই হুমায়ুন জানান, কম্বলের বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। তবে কম্বল গুলো ট্রেন থেকে কে বা কাহারা ফেলে দিলে স্টেশনের পাশ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। কম্বল গুলো বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় নিজের মানসম্মান নিয়ে লজ্জিত বোধ করছেন বলেও তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, কম্বল গায়েব হওয়ার পিছনে পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ পড়ুন, লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

Comments

comments

About আওয়াজ অনলাইন

x

Check Also

শিবগঞ্জ ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বাসীর কথা রাখলেন চেয়ারম্যান সাবু

কামরুল হাসান শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বাসীর কথা ...

error: Content is protected !!