
আলী সম্প্রীতিঃ আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস, "লিঙ্গ ভিত্তিক নির্যাতন" প্রতিরোধে ১৬ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মসূচীর শেষ দিন।
এবারের ১০ ডিসেম্বর ২০২১'র প্রতিপাদ্য,‘বৈষম্য ঘোচাও, সাম্য বাড়াও, মানবাধিকারের সুরক্ষা দাও।
১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মানব বন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রা ও মানব বন্ধন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার।
নাজমা আক্তার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন সমগ্র বিশ্ব জুড়ে শ্রমিকেরা বারংবার নির্যাতিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। রানা প্লাজা, তাজরিন গার্মেন্টস কোন দূর্ঘটনা নয়, মালিক পক্ষের অবহেলার শিকার হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তির জন্য চলে সংগ্রাম। তাদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা প্রতিপদেই লাঞ্চিত হচ্ছেন। গার্মেন্টস শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন করার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করেও সমান মজুরি পাচ্ছেনা। নারীদের মর্যাদাপূর্ণ শোভন কাজে নিয়োজিত করতে হবে। নারীর প্রতি ঘরে কিংবা বাইরে সবখানেই বৈষম্য সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের সর্বাত্মক সহোযোগিতা কামনা করেন ও আই এল ও সনদ ১৯০ অনুস্বাক্ষরের দাবি জানান। লিঙ্গবৈষম্য নির্মূল করে নারী-পুরুষের সক্ষমতার পূর্ণ বিকাশও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।

আওয়াজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক অপারেশন জনাব নাহিদুল হাসান নয়ন নারীর প্রতি অবিচার, রুখে দাড়ানোর অঙীকার করে বলেন, কালের পরিক্রমায় গৃহে ও বহিঃসমাজে নারী ও পুরুষের লিঙ্গ-বিভাজিত ভূমিকাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় সূচিত হয় নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা, যা আজ বিশ্বজুড়ে প্রকট আকার ধারণ করছে। যদিও সময়ের বিবর্তনে সর্বজনীন মানবতা, সামাজিক সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা নিরসন তথা নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
আজকের বিশ্বমানবাধিকার দিবস ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে দিবস উপলক্ষে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ খাদিজা আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পদের বিরাট অসমতা নারীর অধস্তনতাও পুরুষের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাকে সুদৃঢ় করছে। নারী জিডিপিতে বিরাট অবদান রাখছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ নারী ভূমিজ এবং আর্থিক সম্পদবঞ্চিত। যৌন হয়রানি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম রূপ।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক অভিবাসন আনিসুর রহমান খান বলেন নিরাপদ অভিবাসনের অধিকার ই মানবাধিকার। তার বক্তব্য দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে আমাদের মেয়েদের শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। ঐসকল দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোর চিত্র তুলে ধরেন। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কর্মসংস্থানের নামে মেয়েদের বিদেশে পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে; কিন্ত এই সকল নারী অভিবাসীকর্মীদের নিরাপত্তা দানে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সকল ভাগ্যহত নারী অভিবাসীকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবী জানান।