হোম » জাতীয় » বঙ্গবন্ধু কন্যা  শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন

বঙ্গবন্ধু কন্যা  শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন

আব্দুর রাজ্জাকঃ বঙ্গবন্ধু কন্যা  শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। কারন আজ  মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা যে, বঙ্গবন্ধুর  জন্ম শতবর্ষে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ টি দৃষ্টিনন্দন  মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন এবং  পর্যায়ক্রমে আরও  ৫১০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনে চলমান।  যার পরিসংখ্যান ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬৪টি জেলা শহরে ও ৩টি সিটি করপোরেশনে ৫টিসহ মোট ৬৯টি চারতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৫টি এবং সি-ক্যাটাগরিতে উপকূলীয় এলাকায় ১৬টি মডেল মসজিদ। যাদের অনুমোদিত  প্রাক্কলিত মোট ব্যয়ভার ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।এখানে উল্লেখ্য যে  বঙ্গবন্ধু (“আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, একবার মরে দুই বার মরে না “) ২২ই মার্চ ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৈরী করেছিলেন।

প্রায় ৪৬ বছর পর বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরী ঠিক একই পথে অগ্রগতি সাধন করলেন।ফলে মসজিদ গুলোতে  ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ  এবং ৩১ হাজার  ৪০০ জন নারী  এক সঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন-  যাহা মোট জনসংখ্যার (১৮ কোটি)প্রায় ৪%। তাছাড়া  আরও সুযোগ সুবিধার মাঝে রয়েছে ; নারী ও পুরুষের জন্য অজু ও নামাজের পৃথক কক্ষ, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হেফজখানা, গণশিক্ষা কেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র, পাঠাগার, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, জানাজার ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, অটিজম কর্নার ও ই-কর্নার,  ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন,সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা সহ  বিদেশি পর্যটকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা। প্রতিটি মসজিদে একসঙ্গে ১ হাজার ২০০ মানুষ জামাতে নামাজ আদায় করার সুযোগও রয়েছে। সব মসজিদ নির্মান হলে মসজিদের লাইব্রেরিতে ৩৪ হাজার পাঠক বসে বই পড়তে পারবেন,একসঙ্গে গবেষণার সুযোগ পাবেন ৬ হাজার ৮০০ জন, দৈনিক ৫৬ হাজার মুসল্লি দাওয়াতি কার্যক্রম, প্রতিবছর ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর হেফজ পড়া, ১৬ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, ২ হাজার ২৪০ জন অতিথির আবাসনের সুবিধা থাকবে।

সত্যি এই বিশাল কার্যক্রম স্বাধীন বাংলাদেশ এর জন্যে গর্ব।পৃথিবীর ইতিহাসে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের জনগোষ্ঠীর জন্যে সুচিন্তিতভাবে- অন্য কোন বিধর্মীদের ক্ষতি না করে এত  ইসলামিক সুযোগ সুবিধা অন্য কোন মুসলিম দেশে  আছে কি না-  আমার জানা নেই। নিশ্চয়ই এই মহা কর্মযজ্ঞ পরিচালনায়  প্রতিবছরের বাজেটও মহাবড় আংকের হবে। আশা করি এই গুলির  ব্যবস্থাপনার দায়ীত্ব পালনও একটা মহৎকর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু বাংলাদেশ এর বাস্তবতার দিকে যখন তাকাই তখন আমাদেরকে হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ২২ জুন প্রতিষ্ঠিত  ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর বিয়োগান্ত ঘটনার পর কি ভূমিকা ছিল? মাঝখানে সামরিক শাসকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় কি ভূমিকা ছিল?  চার দলীয় জোট ক্ষমতা থাকাকালীন কি ভূমিকা ছিল?  বর্তমান আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ই বা কি ভূমিকা? এই কিছু দিন আগেও বায়তুল মোকাররম মসজিদ ছিল হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা কর্মীদের হাতে।

জামাতের( নামাজ) আগে ও পড়ে মসজিদের ভিতর – বাহির কর্তৃত্ব হেফাজত অনুসারীদের এমন কি মসজিদের পাশেই ফুটপাতের দোকান গুলোও জামাত ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ এর  অনুসারীদের। যে কোন আন্দোলনের নামে এখান থেকে হাজার হাজার কর্মী মুহুর্তেই সংগঠিত হতে পাড়ে। অতীতে হয়েছে বর্তমানে তার উদাহর দিলাম এবং এর বৈরুত ঘটবে না। যদিও  ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, “ইসলাম ও মুসলমানদের খেদমতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইসলামের খেদমতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে অসামান্য অবদান রেখেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ইমানদার মুসলমান।

” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর এই বায়তুল মোকাররম কি ভূমিকা ছিল? সেটা যদি বাদও দেই সামরিক সাশন আমল ও চার দলীয় জোট সরকারের সময়  মসজিদের কর্তৃত্ব ছিল চরম দক্ষিণ পন্থীর হাতে। নামাজের আগে আল্লাহ আকবর এবং নামাজের শেষে আল্লাহ আকবর ও লাঠিয়ালদের ভয়ে সাধারণ মানুষ ঠিক মত নামাজও পড়রে পাড়ে নাই – ইসলামিক চিন্তা চেতনা ও পরিবেশ তো দূরের কথা। মসজিদের ভিতর অস্রহাতে দৌড়াদৌড়ি, পায়ের পাদুকা নিক্ষেপ ইত্যাদি ঘটনা বহুল কাহিনি আজ মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায় ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাইদির কথা – বয়ান শেষে যখন শুনি ” তথা কথিত কমিউনিস্ট নেতা”  শেখ মজিব  বলে গালি দেয়া।  তাই ভয় হয় জেলা বা উপ জেলায় ভবিষ্যতে ঐ মডেল মসজিদ গুলিতে কখন না জানি বক্তব্য  আসে ” তথাকথিত কমিউনিস্ট নেত্রী ” শেখ হাসিনা বলে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মত  উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ইমানদার মুসলমান শেখ হাসিনা কখন না জানি একসংগে সারা বাংলাদেশে নাস্তিক আখ্যায়িত হয়ে উঠে। কারন বাংলাদেশে তথাকথিত ইসলামিক চিন্তাবিদরা দিনে যাকে পাক্কা ঈমানদার বলেন আবার রাত্রে তারাই ঐ ইমানদারকে রাজনৈতিক কারনে কমিউনিস্ট তথা নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করতে কণ্ঠিতবোধ করেন না। ভবিষ্যতেই বলে দিবে এই সমস্ত মসজিদের এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আচার আচরণ কি হবে? যাদের ভয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   তথা  ইসলামের উন্নয়ন নামে – মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকান্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উন্নীত করতে চেষ্টা  করছেন এবং স্বাধীন দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ নির্মূলে  চূড়ান্ত এই মহাকর্মযজ্ঞ যাহা সরকারের বড় অবদান,তা না জানি শস্যের ভিতর ভূত হয়ে দাঁড়ায়। জিয়া ও এরশাদ সাহেবও বিসমিল্লাহের রহমানের রহিম ও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম  সংবিধানে সংযোজন করেছিলেন যে কারনে, ঠিক একই কারনে বঙ্গবন্ধুকন্যা ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং ইসলামী সাংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সেই প্রতিশ্রুতি আজ বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। বাস্তবতা হলো আগের সরকার গুলোর জন্ম ছিল চরম ডান ও মধ্য ডানদের স্বার্থ সংরক্ষের নামে সাম্প্রদায়িকতার লেবাসে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল। আর আওয়ামী লীগের জন্ম ছিল ডান -বাম পন্থীদের সমন্বিত মূর্চ্ছনায় অসাম্প্রদায়িকতা লেবাসে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তীতে ৬ দফার বাস্তবায়ন। আমরা কি ভূলে গেছি পাকিস্তানি সৈন্যরা ইসমালের নামে  পূর্ব পাকিস্তানি জনগনের উপর নির্যাতন -নিপীড়ন -গণহত্যার চালিয়েছিল?আমরা কি দেখছি না!  এখনও আফগানিস্তানের বালিকা বিদ্যালয়ে নিরীহ শিশু নারীর উপর বোমা-নিক্ষিপ্ত হয়। মানুষ মারা যায়। আমরা কি দেখি না এখনও ইসলামের নামে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা কি করছে? আমরা কি ভূলে গেছি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে  ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছিল সারা বাংলাদেশ প্রতিটি জেলা – উপজেলায় মসজিদ নির্মাণের জন্যে নয় বরং এই দেশের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল মেহনতী মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি।

তাঁদের লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্র। আমরা কি তা করতে পরেছি? বরং আজ  আমরা  ভূলে গেছি অর্থনৈতিক মুক্তির ছাড়া কখনও  ধর্মীয় মুক্তি তথা শান্তি সম্ভব নয়। আর্থসামাজিক ন্যায় বিচারহীনতা , বৈষম্যভূক্ত  সমাজ ব্যবস্থা,বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা সমাজে বর্তমান রেখে –  যত ইসলামিক সাংস্কৃতিকের কার্যকলাপ  এবং সারা বাংলাদেশ  মসজিদ তৈরীর পরিকল্পনা করি না কেন- তাতে  জঙ্গিবাদ-  উগ্রবাদিতা  দেশে কখনও হৃাস পাবে না।বরং  সুযোগ সুবিধা পেলেই উহা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবেই। প্রকৃত জ্ঞানহীনতা সমাজে ঘটবেই যদি দেশ প্রেম কার ভিতর জন্ম না নেয়। বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে তুরাগ নদের তীরবর্তী জায়গাটি প্রদানও  তাবলিগ জামাতের কেন্দ্র নামে পরিচিত কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণ করে রমনা পার্কের অনেকখানি জায়গা বর্ধিতকরণ, তাতে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি মুসলমানের কি উপকার হয়েছে? বরং উপকারে হয়েছে মসজিদ ও তাবলীগ এর মাধ্যমে জিএমবি বাংলাদেশ মত প্রচুর ধর্মীয় সংগঠন ও বাঙলাভাই শায়েখ আব্দুর রহমান। এই মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গুলি যে আবার জঙ্গি গোষ্ঠীর  সাধনা এবং অপকর্মের তীর্থস্থান হবে না তাই বা  আমরা কেমন করে বুঝবো?  যদি রাষ্ট্র ক্ষমতা কখন চরম ডান পন্থীদের হাতে যায় তখন তো ঐ মসজিদ ও  ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চরিত্রে আবশ্যই পাল্টাতে বাধ্যগত। তখন ঐ মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গুলি জঙ্গি গোষ্ঠীর অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। আওয়ামী সরকার যে নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবী করছে, সেকি নিশ্চিত আগামী ২০৪১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় আবস্থান করবেন? সময় এক ফোঁড়া অসময়ে দশ ফোঁড়া কথায় বলে – তাই যদি চরম ডান পন্থীরা একবার ক্ষমতায় আসে, তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে আর কিছু থাকবে না।

তখন ঐ মসজিদ  ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হবে রাষ্ট্র পরিচালনা শাখা এবং বায়তুল মোকাররম হবে ইসলামিক সাশনতন্ত্রের কেন্দ্র বিন্দু । ইতিহাস বলে কোন কিছু নির্মাণের উদ্দেশ্য কখনও স্থানী হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না উহার শিকড় গভীর সংস্কৃতিতে রুপান্তরিত না হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পাড়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বাংলাদেশ তার লক্ষ অর্জন করতে পারে নাই কারন সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা নিতে ব্যার্থ হয়েছে তার উপর সামরিক ও ডান পন্থীদের ক্ষমতার বলয়। আমি ধর্মীয় সংস্কৃতির বাহিরের লোক নই, যে কারনে এতগুলি কথা বললাম তাহলো ধর্মান্ধতা সহিত রাজনীতির সংয়োজন  ঘটে তখন আর মুক্ত চিন্তা – বিকাশ বা ন্যায়ের কোন পথ থাকে না, গনতন্ত্র – সমাজতন্ত্র তো  দূরের কথা। আমার ভয়টা সেখানেই।তাই সারা দেশে দৃষ্টিনন্দন  ৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন  করার পাশাপাশি এই গুলি কি ভাবে পরিচিত হবে তার সঠিক পরিকল্পনা হবে আগামীদিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিক নির্দেশনা। দেশ কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত হবে না ইসলামিক সাংস্কৃতির মাধ্যমে আফগানিস্তানের মত ইসলামিক শাসনতন্ত্র কায়েম হবে। সাধু সাবধান।।

জয় বাংলা।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!