
আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ থেকে : চিকিৎসাবিদ্যায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরীকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন করা হয়েছে এবং ২৯ অক্টোবর,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করবেন। এ উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক পুরস্ককার বিতরনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষন দেবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ১৯৫১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপহজলার ভাটিপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম গোলাম কাদীর চৌধুরী ও মরহুমা রোকেয়া কাদীর চৌধুরীর তৃতীয় সন্তান।
তাঁর বাবা প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী সেরা ছাত্র হিসেবে স্কুলে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তিসহ এস.এস.সি পাশ ও ১৯৬৮-৬৯ সালে জগন্নাথ কলেজ, ঢাকা থেকে এইচ.এস.সি.-তে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ ও বোর্ড বৃত্তি লাভ করেন। উক্ত কলেজে পড়াকালীন সময়ে সরাসরি ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জগন্নাথ কলেজ হল ছাত্র সংসদ ইলেকশনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৫ সনে তাঁর অগ্রজ ফজলুল কাদীর চৌধুরী বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী কলেজে (তদানিন্তন কায়েদে আজম কলেজ) ছাত্রলীগ থেকে ছাত্র সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ১৯৬৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং উক্ত কলেজে একই ধারায় ছাত্রলীগ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং একজন কর্মী হিসেবে প্রত্যেকটি দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন সময়ে ৬৯ এর গণ আন্দোলন, ১১ দফা ছাত্র আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণার সময় প্রতিটি প্রোগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করেন। আগড়তলা মামলা চলাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং সেই সময় সার্জেন্ট জহুরুল হক বন্দি থাকা অবস্থায় ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬৯ সালে পাক বাহিনির গুলিতে নিহত হন। রাত ১২টায় উক্ত সংবাদ পাওয়ার পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে ছাত্রদের একত্রিত করে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হল, ফজলুল হক হল থেকে সকল ছাত্র মিলে শহীদ মিনারে এসে রাত ২:০০টায় একটি প্রতিবাদ সভায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সার্জেন্ট জহুরুল হকের লাশ মর্গে নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার জন্য নেওয়া হয়।
উক্ত স্থানে তিনি উপস্থিত থাকেন এবং তখন উক্ত বীর সেনানীকে কবরে নামানোর জন্য তিনি প্রথমেই কবরে নামেন এবং পরবর্তীতে আরও তিন জন নেমে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে আগড়তলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার পর মহান নেতা যখন শহীদ মিনারে আসেন সেই সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭০ সনে মেডিকেল ছাত্র হিসাবে বর্ষিয়ান জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ-এর সাথে ভাটিপাড়া গমন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে তখনকার ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ গঠন এবং ৭০ -এর নির্বাচনে উক্ত নেতার নির্বাচন প্রচারে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত নির্বাচনে জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ নিরঙ্কুশ সংগরিষ্ঠতা নিয়ে এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ৭০ সনে বঙ্গবন্ধু লাহোর ডাক-এর গোল টেবিল বৈঠক থেকে যখন ঢাকা ফেরেন তখন তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দরে হাজার জনতার মধ্যে পি.আই.এ -এর জরুরী গেট দিয়ে বঙ্গবন্ধু বের হওয়ার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি উক্ত গাড়িবহরে নেতার সঙ্গে শহীদ মিনারে আসেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জনসভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের বেশকিছু সংখ্যক ছাত্রসহ তিনি সেই সভায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে সব কিছু বন্ধ করার ঘোষণা শুনে তিনি ভাটিপাড়া নিজ গ্রামে গমণ করেন এবং সেখানে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভাটিপাড়া গ্রামের স্কুল কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে দেশ, জাতি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ করেন। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার ঘটনা শোনার পর তিনি ২৬শে মার্চ তারিখ ভোরে ভাটিপাড়া গ্রামের ছাত্র জনতাকে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও সভা করেন এবং ঐ রাতেই ভাটিপাড়ায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন।
যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন পাকিস্তান নৌবাহিনীর সদস্য জনাব আব্দুল মজিদ চৌধুরীর মানিক মিয়ার নেতৃত্বে ভাটিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে ভাটিপাড়া হাইস্কুলে একটি অস্থায়ী চলমান ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং তখনকার চলমান মুক্তিযুদ্ধে এলাকার মেডিকেল স্টুডেন্ট হিসাবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ভার তিনি গ্রহণ করেন। তিনি তখনকার বিপদসংকুল পরিস্থিতিতেও নিজ গ্রামে অবস্থান করেন এবং তাঁর আত্মরক্ষার জন্য তিনি তাঁহার
2
প্রয়াত পিতার বন্ধুকটি সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখতেন। উক্ত বন্দুকটি নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের একটি অনন্য স্মারক হিসাবে তাঁর কাছে এখনও রক্ষিত আছে। যা মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে দেওয়ার অভিপ্রায় আছে। পরবর্তীতে ভাটিপাড়া গ্রামের অদূরে বাইবনা নামক স্থানে কালনি নদীর কাছে পাকিস্তানি সেনা এবং রাজাকারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়, উক্ত যুদ্ধে পাকিস্থানি সেনা ও রাজাকাররা পলায়ন করে। কিন্তু উক্ত যুদ্ধে সাত জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী শহীদ হন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একজন সিনিয়র মেডিকেল শিক্ষার্থী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে ভাটিপাড়া ইউনিয়ন ও তৎসংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ দখলদার মুক্ত রাখতে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন এবং উক্ত ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দুইটি অপারেশন পরিচালনা করলেও সফলকাম হতে পারেনি। ৭১ এর ১৫ সেপ্টেম্বর বাইবনার যুদ্ধে সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী শহীদ হওয়ার পর তাঁর কবর ভাটিপাড়া গ্রামে দেয়া হয়। ঐদিন ঝড়ের রাতে তিনি সাতজন গ্রামবাসী নিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলীর নামাজে জানাজা ও সমাহিত করার ব্যবস্থা করেন এবং আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। শহীদ আরশ আলীর সাথে একই যুদ্ধে আহত হওয়া মজিদ কোম্পানীর সহ-অধিনায়ক দিরাই থানার ভরারগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম
মাহমুদুর রসুল (ময়না মাস্টার)সহ সকল আহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা চিকিৎসা সেবা পান তার কাছ থেকে।
মেডিকেলের ছাত্র থাকার সুবাদে তিনি ভাটিপাড়া হাইস্কুলে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পুরো নয় মাস সময় নিয়মিত অসুস্থ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দান করেন। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর তাঁর নেতৃত্বে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন শিবির স্থাপন করেন এবং এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে যার যার বাড়িতে পুনর্বাসন কাজে সহায়তা করেন। উক্ত সময়ে মেডিকেল কলেজে ক্লাশ চালু হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এলাকাতেই অবস্থান করেন এবং তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসাবে দায়িত্বরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের আহত সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সিলেন্ট গ্রেডে প্রথম স্থান অর্জন করে চর্ম ও যৌনরোগে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর গ্লাসগো রয়েল কলেজ ফেলোশিপ সনদ এবং আমেরিকান কলেজ অব এনজিওলজি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এ্যাসোসিয়েট ফেলো নির্বাচিত হন। ডা. কবীর চৌধুরী লন্ডনের সেন্টথমাস হসপিটালে স্কিন প্যাথলজি, আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে লেজার ও দিল্লির এইমস থেকে স্কিন সার্জারিসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কানাডার অটোয়া ইউনিভার্সিটি, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি মেডিকেল সেন্টার এবং কলকাতার রিতা স্কিন ফাউন্ডেশনে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠদান করেন।
বর্তমানে তিনি এম.এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, সিটি ইউনিভার্সিটির গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্য পদে অধিষ্ঠিত আছেন। ডা. কবীর চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র চিকিৎসক হিসাবে কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন, যা ছিল এক বিরল সম্মানের বিষয়।
তিনি সারা বিশ্বে বিভিন্ন চর্মরোগ সম্মেলনে গবেষণামূলক প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সিনোপসিস অব ডার্মাটোসার্জারী ও কবীর’স ডার্মাটোলজী ইন প্র্যাকটিস নামক দুইটি চিকিৎসা শাস্ত্রের বইয়ের লেখক এবং আন্তর্জাতিক ডাক্তারি পুস্তক এ ট্রিটাইজ অন টপিক্যাল করটিকসটেরইডস ইন ডার্মাটোলজী -এর সহযোগী লেখকসহ অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি সারাবিশ্বে বিভিন্ন সম্মেলনে চর্মরোগের ওপর গবেষণামূলক প্রবন্ধপাঠ করেন। তিনি কসমেটিক ডার্মাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ -এর সভাপতি,
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি ও ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি -এর নিয়মিত সদস্য। ডা. কবীর চৌধুরী দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে গেস্ট প্রফেসর হিসাবে বিনা সম্মানিতে নিয়মিত শিক্ষা প্রদান করে আসছেন। তিনি রোগীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসরি প্রশ্নোত্তরসহ নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। তাছাড়া বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এবং সাময়িকিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবন্ধ লিখে
3
আসছেন। তিনি অসহায় রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে এম. এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ -এ ফ্রি ভর্তির সুযোগ করে কোনো খরচ ছাড়াই চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে আগত গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধাপ্রদান সহ সকল প্রকার ঔষধ প্রদান করে আসছেন। তিনি বৃক্ষমানব খ্যাত আবুল বাজানদারসহ জটিলরোগের সফল চিকিৎসা করে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেন এবং তিনি উক্ত রোগীকে জমি দান করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদে অনুদান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করছেন। তিনি ভাটিপাড়া গ্রামের প্রাইমারি ও হাই স্কুলে পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। তিনি ভাটিপাড়া ইউনিয়ন কাউন্সিলের অফিস এবং পোস্ট অফিস করার জন্য জমি কিনে বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করেন।
তিনি গত ৪৫ বছর যাবত চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে এক অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তখনকার অন্তরিন অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানেও তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক। বর্তমানে তাঁর জৈষ্ঠ কন্যা ডা. মেহনাজ কবীর একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ।
সর্বপরি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ উবায়দুল কবীর চৌধুরী চিকিৎসা শাস্ত্রে যে অসাধারণ অবদান রেখেছেন তা সর্বজন স্বীকৃত। তাঁকে চর্মরোগ চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ বেস্ট ডার্মাটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ২০০৩, চর্মরোগ এবং কসমেটোলজী চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ বেস্ট ডার্মাটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ২০১০ প্রদান করার পাশাপাশি তাঁকে সিলেটের কৃতি সন্তান হিসাবে সিলেট রত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সর্বশেষ চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরীকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন করা হয়েছে এবং আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্মাননা স্মারক প্রদান করবেন।