
পলাশ মিয়াঃ
উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে নিয়ে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরছেন লাখো তরুণ-তরুণী। বিশেষ করে কৃষক ও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের স্বপ্ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একটি ছোটখাটো চাকরি জোগাড় করাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাস করা শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি হাজারো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।
দুই বছর ধরে চলছে চাকরির অপেক্ষা
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় চাকরির অনুসন্ধানের সময়কাল বিশ্লেষণ করলে। বিবিএস-এর তথ্যমতে, মাস্টার্স পাস করা প্রতি তিনজন বেকারের একজন টানা দুই বছর ধরে চেষ্টা করেও কোনো চাকরি জোগাড় করতে পারেননি। দিনের পর দিন প্রত্যাশা আর হতাশার দোলাচলে দিন কাটছে এই মেধাবীদের।
কেন বাড়ছে এই হাহাকার?
উচ্চশিক্ষিতদের এই ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা 'স্কিল মিসম্যাচ' বা দক্ষতার অমিলকে দায়ী করছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।
সিপিডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে:
স্বপ্নভঙ্গের পথে সাধারণ পরিবারের সন্তানরা
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ পরিবারের সন্তানরা। উচ্চশিক্ষার জন্য পরিবারগুলো তাদের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে, এই আশায় যে সন্তান বড় চাকরি করে পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু মাস্টার্স পাসের পরও যখন তারা দীর্ঘ সময় বেকার থাকে, তখন পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই এই শিক্ষিত বেকাররা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিতদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষার বাইরে গিয়ে চাকরির বাজারের চাহিদাকে মাথায় রেখে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, কর্মসংস্থানের এই হাহাকার আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।