
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
বার্লিন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপার্সন ডঃ ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।২০২৩ সালে টিআই এর চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর।
তাঁর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডঃ ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কয়েকটি দেশে রুটিন সফরের অংশ হিসেবেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি প্রধান বিচারপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের সাথে মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,অর্থ পাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে আন্তরিক আলোচনা হয়েছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ রয়েছে।গত বছর ছাত্রজনতার গণ অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। অনেক আন্দোলনকারী জীবন দিয়েছেন,অনেকে অঙ্গ হারিয়েছেন,অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,গত এক বছরে বাংলাদেশে আগের চাইতে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার অনেক কমেছে। পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা অনেক জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রমাণের অভাবে সমুদয় টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা যত কঠিন তাঁর চাইতে অনেক সহজ অর্থ পাচার প্রতিরোধ করা।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আমরা আমাদের অংশীদার মনে করি।৫ আগষ্টের পরেও সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।ভয়, নির্যাতন ও হয়রানিমূলক মামলা সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করে। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে মারধর করা, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা সাংবাদিকতা পেশায় বিরাট চ্যালেঞ্জ।
সূচনা বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান সংক্ষেপে ডঃ ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁর বাংলাদেশে আগমনের প্রেক্ষাপট এবং এই সফরে তাঁর কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত এক বছরে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার পূরোপুরি বন্ধ হয়নি তবে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে টিআইবি মনে করে।
এক ব্যক্তিগত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,দুদক সংস্কার কমিশনে তাঁর থাকাটা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নীতি বিরোধী হয়নি।কেননা,কোনো কমিশন সরকারের অংশ নয় এবং এখান থেকে আমি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করিনি। এমনকি আমি আমার কাজের জন্য সরকারি অফিসও ব্যবহার করিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বিগত দশ বছরে দেশ থেকে ইংল্যান্ড-ইউরোপে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধ পন্থায় পাচার হয়ে গেছে।টিআইবি সাবেক ভূমি মন্ত্রীর অর্থ পাচারের নথিপত্র ও ইংল্যান্ডে সম্পদ গড়ার প্রমাণ সরকারকে দিয়েছিল কিন্তু কর্তৃত্ববাদী সরকার সেই রিপোর্ট আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা প্রফেসর ডঃ সুমাইয়া খায়ের ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।