
আওয়াজ অনলাইন রিপোর্ট
ঢাকা শহরে ছিনতাই নতুন কিছু নয়, কিন্তু থানার গা ঘেঁষে, একজন সাংবাদিকের ওপর চাপাতির আঘাত—এবং তারপর পুলিশের অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়া? এ যেন এক নতুন বাস্তবতা।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে। সাংবাদিক আহমাদ ওয়াদুদ মোহাম্মদপুরে স্ত্রীসহ হাঁটছিলেন। হঠাৎ তিন রাস্তার মোড়ে ছিনতাইকারীদের হামলা—চাপাতির আঘাত, ছিনতাই মোবাইল ও মানিব্যাগ। স্ত্রী কিছুটা দূরে থাকায় অক্ষত, কিন্তু আতঙ্কে বিধ্বস্ত।
থানা? মাত্র ৩ মিনিট দূরে। কিন্তু সহানুভূতি নয়, যা পেলেন তা রীতিমতো তামাশার মতো আচরণ। থানায় ঢুকেই শুনতে হয়, “আপনার বোতাম লাগান।” আহত শরীর, ভাঙা আত্মবিশ্বাস, আর চাপাতির দাগ—তার ওপর আরও মানসিক আঘাত!
এখানেই শেষ নয়। ওসি নিজেই ভুক্তভোগীকে বলেন, "আমি ওসি হয়েও সস্তা ফোন ব্যবহার করি। আপনি দামি ফোন নিয়ে ঘুরবেন আর ছিনতাই হবে না—এটা ভাবেন কীভাবে?"
পুলিশি সহায়তা তো দূরের কথা, বোতাম ঠিক করা, কলম খোঁজা, অবজ্ঞা সহ্য করে এক পর্যায়ে ওসি-র নির্দেশে একজন অফিসারের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান ওয়াদুদ।
সেখানে আবার বিস্ময়: ছিনতাইকারীরা তখনো ঘটনাস্থলে। ওয়াদুদ তাদের চিনিয়ে দেন, কিন্তু অফিসার আনারুল কেবল কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ছিনতাইকারীরা ধীরে ধীরে সরে যায়—পুলিশের সামনে দিয়েই।
ভুক্তভোগীর ভাষায়, "আমি তাকিয়ে থাকি। পুলিশ তাকিয়ে থাকে। আর ছিনতাইকারী হেঁটে চলে যায়।"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড়। সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, "থানার গা ঘেঁষে ছিনতাই, আর পুলিশ দর্শক—তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?"
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, "ঘটনার তদন্ত চলছে। দুজন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। যারা খারাপ আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রশ্ন উঠেছে,
একজন নাগরিক যখন বিপদে পড়েন, তখন পুলিশের প্রথম দায়িত্ব কী?
সাংবাদিক হলে যদি এমন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাবে?
পুলিশের ভাষায় ‘কমন সেন্স’ কি মানবিকতার চেয়ে বড়?
এই প্রতিবেদন শুধু এক সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা নয়, এটি পুরো ব্যবস্থার এক আয়না।