হোম » জাতীয় » জুলাই যুদ্ধে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাৎবার্ষিকী আজ

জুলাই যুদ্ধে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাৎবার্ষিকী আজ

রিয়াজুল ইসলাম
আজ ১৬ জুলাই পালিত হতে যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের শাহাদত বার্ষিকী ও ‘জুলাই শহিদ দিবস। গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গুলি লাগার মুহূর্তে রাজপথে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ছবি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে মানুষ শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। এই আন্দোলনই রূপ নেয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে।
গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক, শহীদ আবু সাঈদ আজও বেঁচে আছেন কোটি হৃদয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতি ও ছাত্রআন্দোলনের ইতিহাসে নৃশংসতার এক কালো অধ্যায়ের ঠিক এক বছর পূর্ণ হলো।
এই দিনে বর্বরভাবে শহীদ করা হয় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা, ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদকে।

তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী ছাত্রনেতা, যিনি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও প্রগতিশীল আদর্শে অন্যায়, দখলদারিত্ব এবং ছাত্র রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে জাগ্রত করেছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ আজ ছাত্রসমাজের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

বেরোবিতে আসছেন সরকারের চার উপদেষ্টা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি)তে আজ আসছেন সরকারের চার উপদেষ্টা। দিনটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টা।
তাঁরা হলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীরপ্রতীক।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব সিদ্দিক জোবায়ের এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান।

এদিনের কর্মসূচি- সকাল সাড়ে ৬টায় পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা, সকাল সাড়ে ৭টায় শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, সকাল ৯:১৫ মিনিটে কালোব্যাজ ধারণ ও শোক র‌্যালি, সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, সকাল ১০:১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে শহিদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা, বিকেল সাড়ে ৩টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বাদ আসর (বিকাল সাড়ে ৫:৩০ মিনিট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, অনুষ্ঠানে আবু সাঈদের বাবা থাকবেন প্রধান অতিথি। এছাড়াও আরও ২১ জন শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবেন। তারা সবাই স্টেজের উপরে থাকবেন। উপদেষ্টাসহ অন্যান্য অতিথিরা নিচে থাকবেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন :
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আরো বেগমান করতে ১ জুলাই ২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর ব্যানারে একটি সংগঠন এর যাত্রা হয়।
কোটা আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ৩ই আগস্ট সংগঠনটি বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫৮ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি সমন্বয় দল গঠন করে। আবু সাইদ ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক।

বাংলা ব্লকেড : ৬ জুলাই শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে, দেশের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য সেরকম মহাসড়ক অবরোধ করে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। আবু সাঈদ রংপুরে এ কর্মসূচি পালন করেন।

আবু সাঈদের মৃত্যু ও চূড়ান্ত বিজয়
১৬ জুলাই আন্দোলন আরও কঠিন থেকে কঠিনতর আকার ধারণ করে। সরকার পুলিশ ও ছাত্রলীগ নামক পেটোয়া বাহিনী দ্বারা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্যাতন শুরু করে।
দুপুর ১২ঃ০০ টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অঞ্চলে কোটা আন্দোলন কর্মীরা যখন বিক্ষোভ করছিল, আবু সাঈদ এ আন্দোলনের সম্মুখভাগে ছিলেন।অস্ত্রশস্ত্রে সাজ্জিত পুলিশ বাহিনী ছাত্রদের উপরে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে। আন্দোলন কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যান।কিন্তু নির্ভীক আবু সাঈদ দুহাত প্রসারিত করে একা দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মানুষরূপী পুলিশের একের পর এক ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার।

আবু সাঈদ এর মৃত্যুর এই নির্মম দৃশ্য,সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে,দেশের সর্বস্তরের জনগণ বিশেষত সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সমাজ একসাথে সরকার পতনের এক দফা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। যারই ফলে ৫ ই আগস্ট বাংলাদেশে নতুনভাবে স্বাধীন হয়।
আবু সাঈদ স্মরণে
দেশের জন্য আবু সাঈদের নিজের জীবনের এই ত্যাগকে স্মরণ করে রাখতে। রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তন করে “আবু সাঈদ চত্বর ” ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের নাম “শহীদ আবু সাঈদ গেট” নামকরণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবু সাঈদের মৃত্যুকে বরণ করার আগে দুই হাত প্রসারিত ছবিসহ গেঞ্জি ও দেখা যায়।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!