
আমি জীবন্ত কৃতদাস
কবি: শাহজাহান সিরাজ সবুজ
আমি জীবন্ত কৃতদাস, দুঃখের শিকলে বাঁধা,
হাসি নেই, চোখে শুধু অজস্র বোবা ব্যথা।
শ্বাস নেব নিজের মতো—সে অধিকার নেই,
নেই শান্তি, নেই নির্ভরতা—নেই কোনো স্বপ্নস্নেহ।
দিনরাত শুধু দায়ের ছায়ায়—জ্বলা এক দহন,
ভেতরে ভেতরে পুড়ি আমি, নিঃশব্দ আত্মাবরণ।
ঘুম আসে না চোখে, তবু ভাঙা স্বপ্ন দেখি,
শরীর ভাঙে, মনও ভাঙে, তবু মুখে হাসি ফেলি।
কেউ বোঝে না এ বোঝা—সংসারের হাহাকার,
আমি কাঁদি একা ঘরে, নিঃশব্দ অন্তঃকার।
প্রীতি পাইনি প্রিয় মুখে, পেয়েছি অবহেলা,
আপনজনের ঠেলায় পড়েছি গভীর গহ্বরে।
প্রতিদিনের জীবন যুদ্ধ—নীরব অপমান,
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভাঙা প্রাণ।
অন্ধকারে ক্লান্ত আমি, নিঃসঙ্গ পথযাত্রী,
একাই হাঁটি সহ্য করে শত ব্যথার জ্যামিতি।
যারা ছিলো একদিন পাশে, যাদের হাসি আশ্বাস,
আজ তারাই ব্যস্ত নিজস্ব জগতে,
ভুলে গেছে আমার হৃদয়ের আশা।
অভিমান নেই, তবু বুকের গভীরে জ্বলে,
তারা জানে না কেমন আছি—না শোনে, না বলে।
আমি কিছু বলি না আর, মুখ শুধু নিচু রাখি,
ভাঙা কণ্ঠে কান্না জমে—নিজেকেই আড়াল রাখি।
দোষ দিই না কাউকে, শুধু বোঝাতে চাই,
যারা ছিলো নির্ভরতা, আজ তারা অচেনা ভাই।
তবুও আমি দাঁড়িয়ে থাকি—ভেঙেও পড়ি না,
ভালোবাসা হয়তো আছে—এইটুকু আশা করি না।
জীবনের প্রতিটি কোণায় শুধু শূন্যতা জমে,
ভালোবাসাহীন অস্তিত্ব—নিভে যাওয়া আলোসম।
সময় থেমে গেছে, ভাঙা ছন্দে বাঁচি,
ভবিষ্যতের ছবি আজ কেবল কুয়াশায় আঁকি।
তবু আমি আগুনে পুড়ি, দাঁড়িয়ে থাকি স্থির,
একটুখানি আলো খুঁজি—সেইটুকুই প্রিয় নির্ভর।
আমি জীবন্ত কৃতদাস, এই পরিবারের বুকে,
নিয়তির শিকলে বাঁধা, দুঃখের ধ্বংসস্তুপে।
কেউ বলে না “থেকো ভালো”, কেউ ধরে না হাত,
আমি শুধু অস্তিত্ব নিয়ে থাকি ভাঙা রাত।
চোখে নামে ঘন আঁধার, তবু একটা আলো জ্বলে—
“তুমি এখনও বেঁচে আছো, কবি—তোমার ভেতরেই মুক্তি চলে…”