
জেএম.মমিন: ভোলার বোরহানউদ্দিনে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আউশ মৌসুমে ধানের তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সার, ঔষধ মজুত থাকায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এখানকার কৃষকরা আমান চাষে ঝুকছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র আরো জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যার মধ্যে ১৫ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে উপশী এবং ২ হাজার ৯শত হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ব্রি ধান ৫২, ৭৬ বিনা ধান-১৭, ২০ এবং স্থানীয় কার্তিক সাইল, মধুমালতি, সাদা মোটা, সাদা চিকন, রাজাসাইল ধানের চাষ হবে বলে জানান তারা ৷ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গ্রাম গুলোতে আমন ধান রোপনে ব্যস্ত চাষিরা ৷ এমনই এক চাষি সাচড়া ইউনিয়নের বাথান বাড়ী গ্রামের শাফিজল হক ৷ সে জানায়, প্রতি একর জমিতে ধান রোপনের জন্য জমি তৈরি, চাষ, সার, কিটনাশক, শ্রমিক, জমি থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত পরিচর্যা, আগাছা দমন, ধান কাটা ও মাড়াই সহ প্রায় ১৯ হাজার টাকা খরচ হবে।
একই গ্রামের ইউসুফ কাজি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ একর জমিতে আমনের চারা রোপন করবে ৷ একর প্রতি ৩৫-৪০ মন করে ভালো ফলন হলে এবং দাম ভালো পেলে লাভের মুখ দেখবে ৷ রামকেশব গ্রামের বর্গা চাষি আব্দুল আলী জানান, আমি এক একর জমিতে চাষ করবো ৷ বর্গা বাবদ মালিককে ১১ মন ধান দিতে হবে ৷ এদিকে দরুন গ্রামের শাজাহান, সাচড়া গ্রামের অলিউল্যাহ, সাচড়া গ্রামের মনির, জাহাঙ্গীর, ইসমাইল, দেউলা গ্রামের মফিজল,
আলমগীর , ইউনুছ ও কালাম জানান, বীজ বপনের পর বৈরী আবহাওয়া থাকায় কিছু কিছু কৃষকের বীজ তলা আংশিক ক্ষতি হলেও বেশির ভাগ বীজতলাই ভালো রয়েছে ৷ বিভিন্ন প্রজাতির প্রতি কেজি ধানের চারা ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ৷ এবং একদিনের শ্রমিকের হাজিরা ৫০০-৬০০ টাকা ৷ ভালো ফলন ও ভালো দামের আশা করছেন তারা ৷ বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কৃষক মালেক, এছহাক আলী ও রেশাদ আলী জানান তারা
যথাক্রমে ৩,২,১ একর জমি আমন চাষের আওতায় আনেন।যার প্রায় ৮০ ভাগ রোপণ করা হয়েছে। জালা কিংবা সারের কোন সমস্যা নাই বলেন জানান তারা। টবগী ইউনিয়নের নুর হোসেন হাওলাদার,কাচিয়া ইউনিয়নের উত্তম কুমার দাস,পক্ষিয়া ইউনিয়নের নাছির,হাবিবুল্যাহ জানান, তারা আউশের চেয়ে আমন চাষ বেশি করেছেন। চলতি বছর ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় তারা আমন চাষে আগ্রহী হন। এছাড়া ব্রি-৫২ জাতের ধানটি জলসহায়ক এবং বেশি
ফলন দেয় বিধায় তারা আমন চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আলম,বিশ্বজিৎ দে,খায়রুল আলম মুন্সি জানান,তাদের ব্লকগুলো আমন রোপন শেষ হয়েছে।ব্রি-৫২ ধানটি জলসহিষ্ঞু ও ফলন ভালো বিধায় তারা কৃষকদেরকে এটা চাষে পরামর্শ দিয়েছেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারক জানান, আমনের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক প্রযুক্তি লাইন,লেগো,পার্চিং ঠিক রেখে কাজ করছে কৃষকরা । উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার মাঠ পর্যায়ে সব সময় মনিটরিং করছে।তাই কৃষকরা খুবই উজ্জীবিত। টার্গেট পূরণ হবে।

আরও পড়ুন
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান
ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত