প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৬, ৪:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৯, ২০২১, ৩:০৫ পি.এম
বোরহানউদ্দিনে বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত আমন চাষীরা

ভোলা সংবাদদাতাঃ ভোলার বোরহানউদ্দিনে বোরো ফসল ঘরে তোলার পর আমন চাষের নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে কৃষকরা । তাই বীজতলা প্রস্তুুতিতে ব্যস্ততম সময় কাটছে তাদের। বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৫হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে উপশী এবং ২ হাজার ৯শত হেক্টর ৷ তথা প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার
বিপরীতে ১ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। যার মধ্যে উচ্চফলনশীল ১০৩৩ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২৪২ হেক্টর। এদিকে প্রযুক্তির ছোয়ায় আমুল বদলে যাচ্ছে এ এলাকার কৃষি ব্যবস্থা। উদ্যোমী কৃষকগন নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহন করছে এবং লাভবান হচ্ছে । দিন বদল হচ্ছে কৃষকদের।এক কথায় গ্রামীন কৃষি অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে দ্বীপজেলায়। কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এমন একটি প্রযুক্তি হচ্ছে কমিউনিটি ও আদর্শ বীজতলা। শষ্য
ভান্ডার হিসাবে পরিচিত দ্বীপ জেলা ভোলা। চলতি আমন মৌসুমেও জেলার বোরহানউদ্দিন উদ্দিন উপজেলায় আদর্শ বীজতলা তৈরীতে আগ্রহ বাড়েছে কৃষকদের । দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্ধতিটি।কমিউিনিটি বা আদর্শ বীজতলা তৈরী করায় কৃষকদের ধান উৎপাদ খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কম লাগছে বলে জানান, কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃফিরোজ আলম।
উপজেলার বাটামারা এলাকার কৃষক মোঃ নাছির জানান, একসাথে এক একর জমিতে ব্রি ধান ৫২ এর আদর্শ বীজতলা তৈরির কথা। এছাড়া পক্ষিয়া,টবগী ও কুতুবা ইউনিয়নের কয়েকটি ব্লকের আধুনিক বীজতলা পরিদর্শণে গেলে টবগী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কৃষক বিরান চন্দ্র দাস,নিরব,রিপন ইব্রাহিম,পক্ষিয়া ইউনিয়নের আকতার,
মালেক, আলমগীর,কুতুবা ইউনিয়নের অহিদ সর্দার,আমির হোসেন,গংগাপুর ইউনিয়নের সবুজ, বেল্লাল, আলমগীর জানায়,উপজেলা কৃষি অফিসার বিভিন্ন ট্রেনিং এর সময় আমাদেরকে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা বপন করতে বলেছেন। মাঠ পর্যায়ের অফিসারগন আমাদেরকে ১মিটার পাশ এর পর একটু জায়গা খালি রেখে (আলাদা আলাদা বেড করে আদর্শ বীজতলা) ধান রোপণ করত বলছেন।বীজতলায় তারা ব্রি ধান ৫২,৭৬ বিনা ধান-১৭,২০ এবং স্থানীয়
কার্তিক সাইল,মধুমালতি,সাদা মোটা,সাদা চিকন,রাজাসাইল বীজ ধান লাগান বলে জানান। তারা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে ওই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করেন। প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে যে কোন জমিতে বীজতলা করলে তা থেকে চারা উঠানো খুবই সহজ। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করলে বীজ,শ্রম সার,কীটনাশক স্প্রে,সেচ দেওয়া সহজ ও সময় কম লাগে।পূর্বের পদ্ধতিতে তৈরী বীজতলার চারা
দিয়ে ২.৫ একর জমি রোপন করতে ৫০ কেজি বীজের চারা লাগত। আদর্শ বীজতলার ক্ষেত্রে ওই পরিমান জমিতে লাগে ৩৫ কেজি বীজ এর চারা। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা কয়েকটি বীজতলা পরিদর্শন করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারুক জানান,আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা করলে সব দিক দিয়েই উপকৃত হয় কৃষক। এছাড়া ও চারায় ছত্রাক জনিত বাকানী রোগ হলে কিংবা বিজাত বাচাই করে চারা উপড়ে ফেলতে সহজ হয়।তিনি আর ও জানায়,বিভিন্ন প্রকল্প ভিক্তিক প্রশিক্ষণের সময় কৃষকদেরকে আদর্শ বীজতলা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.