
ইমরান মোহাম্মদ খান: আওয়াজ ফাউন্ডেশন এর সর্বাত্মক সহোযোগিতায় পাচার হয়ে যাওয়া শিখা রানী দেশে ফিরলো ।
ময়মনসিংহের মনবাসী আওয়াজ ফাউন্ডেশন এর অফিসে এসে আমার কাছে কেঁদে কেঁদে বলেছিলো স্যার আমায় মাইয়্যাডারে (শিখা রানী) বিদেশথুন আইন্যাদ্যান। আমিও বলেছিলাম আওয়াজ ফাউন্ডেশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আপনার মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার। ধৈর্য্য ধরুন অপেক্ষা করুন।
নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত ২৪/০৭/২০২১ তারিখে আওয়াজ ফাউন্ডেশন এর সর্বাত্মক সহোযোগিতায় রাত ১২ঃ৩০ সময় বাংলাদেশে আসে। বিগত দুইদিন আগে থেকেই শিখা রানীর সাথে আমার আলাপ হয়। তার মা আর ভাইকে আমি জানিয়ে রাখি তাদের মেয়ে/বোন দেশে আসবে। রাত ০২ঃ০৩ মিনিটে শিখা রানীর কণ্ঠ আমার কানে ভেসে আসে। স্যার আমি দ্যাশে আইছি। তার কণ্ঠে এমন শান্তির কথা শুনে নিরাপদে শান্তিতে ঘুমাই।
অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে মা এবং মেয়ে দুজনেই একই সাথে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে যাবার কথা থাকলেও মা ২ দিন আগে যায় এবং মেয়ে ২দিন পরে যায়। উল্লেখ্যযে শিখা রানী পাচার হয়ে গিয়েছিলো। ২ বছর পরে মা মনবাসী রানী ঠিকমতো দেশে ফিরতে পারলেও মেয়ে কিন্তু পারেনি।
মা মনবাসী রানী কেঁদেকেঁদে বলেছিলো আমার মেয়েকে আমি নিজ হাতে শেষ করে দিলাম। আমি কি করবো? আমিযে চির অপরাধী হয়ে গেলাম! আমার বুকটা শুন্য হয়ে গেছে। তাকে দেওয়া শান্তনার বানী সত্য প্রমানিত করলো আওয়াজ ফাউন্ডেশন।
দীর্ঘ ঝামেলা, ভোগান্তি ও নানান আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী শিখা রানীকে আওয়াজ ফাউন্ডেশন এর সার্বিক সহায়তায় ফেরত আনতে পেরে আত্মতুষ্টির ঢেকুর তুলতে পেরেছি। মনের ভেতর একটা প্রশান্তির ঢেউ খেলা করছে। মায়ের শুন্য বুক ভরে যাবার এমন দৃশ্য যেন এক পরম মহাসুখের প্রতিচ্ছবি।
আওয়াজ ফাউন্ডেশন মানেই প্রবাসীদের আস্থা, নির্ভরতা, বিশ্বস্ততার নাম। এভাবেই প্রবাসী ভাইবোনদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পাশে থাকবে আওয়াজ ফাউন্ডেশন।