
রায়হান আলীঃ চলতি বছর কোরবানি ঈদ সামনে রেখে উত্তররবঙ্গের গো-চরণ ভূমি খ্যাত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার গরুর পরিচর্যা করছেন খামারিরা। কিন্তু গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাজার মন্দা, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পশুর হাট স্থাপনে বিধি নিষেধ সহ নানা কারণে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে খামারিদের কপালে । গতবারের মতো এবারও তারা ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তবে অনলাইনে গরু বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি খামারিদের । খামারিদের মূল শঙ্কা করোনা এবং লকডাউনের অজুহাতে গো-খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। ঈদের কথা ভেবে এটুকু মেনে নিয়েছেন খামারিরা। কিন্তু এ বছরও যদি পশুর হাটে ক্রেতা বা পাইকার আসা-যাওয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয় তাহলে লোকসানে পড়তে হরে প্রান্তিক খামারিদের।
এসময় কথা হয় উল্লাপাড়ার গ্যাস লাইন হাটের পাশে অবস্থিত মা বাবার দোয়া এগ্রো ফার্মের মালিক মতিন সরকারের সাথে তিনি বলেন,প্রতিবছরের ন্যায় এবছরের লাভের আশায় খামারে গরু তুলেছি। বর্তমানে আমার খামারে ৩৫ থেকে ৪০ টা ষাঁড় গরু রয়েছে। যার একেক টা গরুর মুল্য ২ লাখ থেকে আইড় লাখ টাকা। কিন্তু এবারে আর মনে হয় না লাভের মুখ দেখা হবে। যে পরিস্থিতি তাতে এবারে মুলধন তোলা নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সর্বত্র লকডাউনের কারনে সকল পশুর হাট বন্ধ তাই আমরা গরুর ন্যায্য মুল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তবে শহরে যে সকল খামারিরা রয়েছে তারা অনলাইনে গরু বিক্রি করছে। আমরা প্রান্তিক খামারিরা অনলাইন তেমন একটা বুঝি না তাই এবারে আমাদের গরু বিক্রি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোর্শেদ উদ্দিন আহম্মদ বলেন, চলতি বছর কোরবানি ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার। করোনার কারনে হাট বন্ধ থাকায় খামারিদের কথা চিন্তা করে আমাদের জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পশুর হাট নামে একটা এ্যাপ তৈরী করা হয়েছে। এই এ্যাপসের মাধ্যমে খামারিরা তাদের গরু বিক্রি করতে পারবে।