
আওয়াজ অনলাইনঃ বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছেই ছিল ১০ বছর বয়সী কন্যা শিশুটি। এদিকে, সন্তানকে নিজ হেফাজতে নিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন শিশুটির বাবা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায় গত ৩০ জুন আদেশ দেন পারিবারিক আদালত।
ওই আদেশে বলা হয়, শিশুটি বাবার হেফাজতে থাকবে ২১ দিন। এসময়ে কেবলমাত্র শুক্র ও শনিবার শিশুটি মায়ের হেফাজতে থাকবে। এছাড়া শিশুটির অনলাইনে স্কুলের ব্যবস্থা করে দিতে বাবাকে আদেশ দেওয়া হয়।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের আদেশ স্থগিত করে দেয়। সেইসঙ্গে ১০ বছরের কন্যা সন্তানকে মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দেয় আদালত। আর বাবাকে বলা হয়েছে তিনি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
আদালতে মায়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফখরুল ইসলাম ও মাসুদ রানা। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মা-বাবা দুজনই উচ্চ শিক্ষিত। ২০০৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। এরপর ২০১১ সালে একটি কন্যা সন্তান হয়। এরপর ২০১৮ সালে তাদের সেপারেশন (পৃথক) হয়ে যায়। যদিও সেটা কার্যকর হয় ২০১৯ সালে। সেপারেশনের পর থেকে সন্তান মায়ের কাছেই ছিল। হঠাৎ দুই বছর পর গত ৬ জুন সন্তান নিজের জিম্মায় চেয়ে পারিবারিক আদালতে একটি মামলা করেন বাবা সৈয়দ খায়রুজ্জামান।
‘তার মামলা আমলে নিয়ে বিচারক আদেশ দেয় সপ্তাহে একদিন ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাবা সন্তানকে দেখতে পারবে। এরপর গত ৩০ জুন বাবা আরও একটি নতুন আবেদন করেন। আবেদনে সপ্তাহে পাচঁ দিন বাবার কাছে আর দুই দিন মায়ের কাছে থাকবে এমন দাবি করেন। তার সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে পারিবারিক আদালতের বিচারক ২১ দিনের জন্য সন্তানকে বাবার কাছে দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়।’
মায়ের পক্ষের এই আইনজীবী জানান, ২১ দিনের মধ্যে মায়ের হেফাজতে থাকবে শুক্র ও শনিবার। বাকি সময় বাবার কাছে থাকবে। বাবা সন্তানের অনলাইনে স্কুলের ক্লাসের ব্যবস্থাও করবেন। বাদী ও বিবাদীর এবং তাদের পিতামাতার বাসার পরিবেশ দেখা, কার বাসায় কে থাকেন এসব বিষয়ে সার্বিক প্রতিবদন জমা দিতে ২১ দিনের মধ্যে হাজারীবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিল বিচারিক আদালত।
তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মা রুবিয়া পারভিন হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সন্তানকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে।