
এম.এ রাশেদ:বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পার ভবানীপুর গ্রামের আমতলা বাজার হতে ঘোড়দৌড় দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা। এখনও নেওয়া হয়নি পাকাকরণের উদ্যোগ। অন্যদিকে মাগুরাড় তাইড় হাজীপাড়া হতে ঘোড় দৌড় ঘোষ পাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং মাগুরাড় তাইড় পশ্চিম পাড়া হতে পারভবানীপুর নতুন মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তারও একই অবস্থা।
এলাকাবাসী জানান, এসব রাস্তা দিয়ে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ শহরের সাথে যোগাযোগ করেন। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা পাকা হলেও এগুলো সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এসব এলাকার মাটির রাস্তাগুলি গ্রীষ্মকালে যেমনটি ধুলাবালিতে ভরে যায় আবার বর্ষাকালের ঘোলা পানি, কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। কাঁচা মাটি দিয়ে তৈরি এসব রাস্তাগুলি স্বাধীনতার পর আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ঘন বর্ষার সময় কাদায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই রাস্তায় চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আর
উপায় থাকে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না এই অচলাবস্থার কারণে। এই এলাকার চাষীরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করণ নিয়েও পড়েন বিপাকে। এছাড়া কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হয় না তাদের। এলাকাবাসী জানান, আমরা গত ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে বারবার রাস্তা পাকা করণের দাবি জানিয়ে এসেছি। বর্ষাকালে এসব রাস্তার কর্দমাক্ততার ফলে পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। তবুও কর্দমাক্ত পিচ্ছিল এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন এই এলাকার মানুষ জীবনের
ঝুঁকি নিয়ে অতি কষ্টে যাতায়াত করছে। এলাকার বাসিন্দা মো: আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নেতা আসে নেতা যায়, কিন্তু এ রাস্তা পাকা হয় না। বর্ষা এলে প্রতিবছরই এ রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। হাঁটুসমান কাদামাটি পেরিয়েই এ রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত কাদার কারণে কোনো যানবাহন এই রাস্তায় তেমন চলাচল করে না। তাই কোনো আত্মীয়স্বজনও এই গ্রামে আসতে চায় না এমনকি বিয়ে দিতে এবং করাতে চায় না।
পার ভবানীপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর নবনির্বাচিতসভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, গভীর রাতে গর্ভবতী কোনো মায়ের প্রসবব্যাথা উঠলে রাস্তায় কাদার কারণে যানবাহন খুব বেশি না থাকায় কাঁধে করে অন্তঃসত্ত্বা রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়। ফলে অনেক সময় সন্তান গর্ভেই মারা যায়। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে উপজেলা
উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রশিদের নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি। রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের ব্যাপারে খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, যেকোনো কারণেই হোক রাস্তাগুলি পাকা করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে পাকা করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান