
শেখ হান্নান: মলয় বিধৌত যমুনার পশ্চিম অববাহিকায় ২৭ লক্ষ লোকের যে অধিবাস, মে স্বর্গধাম তার নাম সিরাজগঞ্জ জেলা। ৯৬৬ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া এবং শাহজাদপুর এই ৯টি উপজেলা নিয়ে স্বকীয় জীবন চেতনায়, সুখদুঃখের মাঝে আপন মহিমায় বাংলাদেশের মানচিত্রে তার অবস্থান।
এই জেলার নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিকগণ দু-তিন টি মন্তব্য, ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে-১৭৮৭সালের দিকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার নায়েব ইসলাম খাঁ বিখ্যাত নদী বন্দর- গঞ্জে যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে একটি শহর পত্তন করেন তার নাম নবাব সিরাজউদ্দৌলার নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখেন সিরাজগঞ্জ। আবার অনেকে মনে করেন-মোঘল বাদশা জাহাঙ্গীরের সময় বাংলা কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল। পরগনাগুলোর মধ্যে 'বড় বাজুহা' (বাজু) পরগনা সবচেয়ে বড় ছিলো। বাদশা জাহাঙ্গীরের নায়েব ইসলাম খাঁর কাছ থেকে পীর হযরত শাহ সুফি আফজাল মাহমুদ বড় বাজু পরগনার পত্তনি গ্রহণ করেন।
এই পীর সাহেবের এক ভাইয়ের নাম ছিলো সিরাজ আলী চৌধুরী। সিরাজ আলী চৌধুরী 'বড় বাজু' সাত আনা অংশ কিনে নেন এবং তার ক্রয়কৃত 'বড় বাজু' পরগনার নাম দেন "সিরাজগঞ্জ জমিদারি"। অর্থাৎ জমিদারের নাম সিরাজ এবং গঞ্জ জুড়ে দিয়ে 'বড় বাজু' হয়ে যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি র নাম "সিরাজগঞ্জ"। এই সিরাজ আলী চৌধুরীর নামে র সম্পৃক্ততাই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মতামত। পূর্বে উল্লেখ করেছি যে সিরাজগঞ্জ জেলা করালগ্রাসী ভয়ঙ্কর যমুনার পশ্চিমে অবস্থিত। এই বড় বাজু পরগনা মোমেনশাহী বা ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত ছিলো। শান্তি শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক যোগাযোগ সুদূর ময়মনসিংহ থেকে রক্ষা করা খুবই অসুবিধা ছিলো। এই অসুবিধা বিবেচনায় ১৭৯২সালে 'সিরাজগঞ্জ থানা' এবং ১৮৪৫ সালে সিরাজগঞ্জ কে মহকুমা ঘোষণা করে প্রসাশনিক শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সিরাজগঞ্জ পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৮৬৯সালে সিরাজগঞ্জ পৌর সভা এবং ১৯৮৪সালে ১ফেবরুয়ারি সরকারি ঘোষণা বলে পাবনা জেলা হতে বিভক্ত হয়ে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে প্রাণপ্রাচুর্যময় এই জনপদের আত্নপ্রকাশ। অর্থাৎ একথা জোর দিয়ে বলা যায়, এক কালের প্রতাপশালী জমিদার সিরাজ আলী চৌধুরীর নামানুসার ইতিহাসের একটি মহিমান্বিত এলাকা হিসেবে বাংলাদেশের মানচিত্রের সোনালি পাতায় আজকের এই সিরাজগঞ্জ জেলার নামকরণ। ( চলবে)।।
রচনা ও গ্রন্থনা:-
শেখ হান্নান,
নাট্যকার ও লেখক।
১৫.০৭.২০২০খি: