
মোঃ হানিফ, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার রওনক আবাসিক হোটেলে কথিত প্রেমিক মো.শরীফুল ইসলাম নূরের হাতে স্কুল ছাত্রী (১৬) ধর্ষণের সত্যতা স্বাীকার করেছে। আটক হওয়ার পর মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে বিজ্ঞ আদালত নোয়াখালীতে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে স্বীকারোক্তি
দিয়েছেন। এই ঘটনায় ২৭ জুন রাতে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামী করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। উল্লেখ্য, ভিকটিম কিশোরী (১৬) চাটখিল উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত রোববার সকাল ৯ টার দিকে নিজ বাড়ী হইতে চাটখিলের একটি স্কুলে এসে এসাইনমেন্ট জমা দিয়ে পুনরায় বাড়ী ফেরার পথে আসামী ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাটখিল পৌরসভাধীন উপজেলা গেইটের সামনে নিয়া আসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীফ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ভিকটিমকে ফুসলিয়ো প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে সোনাইমুড়ী
থানাধীন রওনক আবাসিক হোটেলে নিয়া আসে। আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদ জনির সহায়তায় হোটেলের ৫ম তলার ৫০৬ নম্বর কক্ষের ভিতরে নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ভিকটিমের যৌনাঙ্গ ফেটে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হইতে থাকলে হোটেল ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদ ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহযোগীতায় শরীফ ভিকটিমকে দুপুর দেড়টার দিকে সোনাইমুড়ীর আল খিদমাহ জরুরী সেবা ও নরমাল ডেলিভারী হসপিটাল ভর্তি করে। ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজন ঘটনার বিষয়ে জানতে
পেয়ে আল খিদমাহ জরুরী সেবা ও নরমাল ডেলিভারী হসপিটাল”আসিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আসামীরা কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিসান আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে রাত্রেই ভিকটিমকে থানার ওসি ও একজন এ এস আই রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছে। ঐ রাতেই ধর্ষণকারী মো.শরীফুল ইসলাম নূর ও রওনক হোটেলের ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদ জনিকে গ্রেপ্তার করেছি। বিজ্ঞ আদালতে মুল অপরাধী
জবানবন্ধী দিয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। হোটেল ম্যানেজার টাকার লোভে দিনের বেলায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ১৫০০ টাকার বিনিময়ে রুম ভাড়া দিয়েছে। তবে হোটেলের রেজিষ্টারে তাদের পরিচয় লিপিবদ্ধ করেনি। ভিকটিম স্কুল ছাত্রীকে যৌনাঙ্গে অপারেশন করানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার এখনো উন্নতি হয়নি। এ ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।