হোম » প্রধান সংবাদ » জামালপুরে হারভেস্টপ্লাসের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে জিংক ধানের বীজ বিতরণ

জামালপুরে হারভেস্টপ্লাসের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে জিংক ধানের বীজ বিতরণ

রবিউল হাসান লায়ন,জামালপুর: ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বিংগস প্রকল্পের আওতায় হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রোববার কৃষকদের মাঝে জিংক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ আঃ ছাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, হারভেস্টপ্লাস বিংগস প্রকল্পের সমন্বয়কারী কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান খান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আঃ ওয়াহাব, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল নাহার, ইউপি সদস্য শামীম হোসেন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জাফর আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, হারভেস্টপ্লাস জামালপুর প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে
শতাধিক পরিবারের মাঝে ৪ কেজি করে ব্রি ধান-৭২ এবং বিনাধান- ২০ এর বীজ বিতরণ করা হয়। জানা যায়, জামালপুর জেলার সদর, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩ হাজার চাষীর মাঝে আমন মৌসুমে ২০২১ এ জিংক ধানের বীজ বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান তার বক্তব্যে বলেন, হারভেস্টপ্লাসের জিংক প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) জিংক সমৃদ্ধ এই ধান বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছে। যার বীজের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো। জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেলে
ছেলে মেয়েরা খাটো হয় না। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ হয়। ক্ষুদা-মন্দা দূর করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তিনি বলেন, ব্রি ধান ৭২ এর ফলন বিঘা প্রতি ২০-২৫ মণ, গড় জীবনকাল ১২৫-১৩০ দিন, চালের আকার আকৃতি লম্বা, মোটা ও রং সাদা। প্রতি কেজি চালে ২২.৮ মিলিগ্রাম জিংক ও ৮.৯ ভাগ প্রোটিন আছেন বিনাধান- ২০ এর গড় জীবনকাল ১২৫-১৩০ দিন বিঘা প্রতি ফলন ১৫-২০ মণ, চালের আকৃতি লম্বা, চিকন এবং রং
লালচে। প্রতি কেজি চালে গড়ে ২৬.৫ মিলিগ্রাম জিংক আছে। যেহেতু ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য সুতরাং করোনা মহামারীর মধ্যে এই জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলি বেশি বেশি চাষাবাদ করে খাদ্যের পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার জন্য আমরা কৃষকদের উৎসাহ প্রদান করছি। বিশেষ অতিথি হারভেস্টপ্লাস বিংগস প্রকল্পের সমন্বয়কারী কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন, এই জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলির পুষ্টির পাশাপাশি বেশি ফলন দেওয়ার সক্ষমতা আছে।
তাই কৃষকদের এই জাতগুলি চাষাবাদের পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ করা, বাজার উন্নয়ন, পুষ্টি সমৃদ্ধ এই জিংক চালের ভাত খাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জিংক শিশুদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জিংকের অভাবে কিশোরী ও গর্ভবতী মায়ের শারিরীক দূর্বলতা দেখা দেয়।
গর্ভের সন্তানের  স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দৈনিক শিশুদের ৩-৫ মিলিগ্রাম ও মহিলাদের ৮-৯ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন পড়ে। যা আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে আমরা যদি জিংক সমৃদ্ধ ধান উৎপাদন করে তা নিজেদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি তাহলে এই জিংকের ঘাটতি অনেকাংশে কমে যাবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!