প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ১২:৪৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৬, ২০২১, ৬:০২ পি.এম
দাগনভূঞার যুবককে পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ মীরেরশ্বরাই পৌর কাউন্সিলর রাজুর বিরুদ্ধে

মোঃআবদুল মুনাফ পিন্টু,দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা পুর্ব চন্দ্রপুর হাসান গনিপুর আজিম হোসেন শাহাদাত (১৮) নামে এক যুবককে মীরেরশ্বরাইয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মীরেরশ্বরাই পৌরসভার আম বাড়িয়া ৪ নং ওযার্ড কাউন্সিলর রাজুর বিরুদ্ধে এ হত্যার অভিযোগ উঠে। নিহত শাহাদাত
কাউন্সিলর রাজুর বাড়িতে এক সময় গৃহকর্মীর কাজ করতো। নিহতের পিতা আবদুল বাতেন জানান, আমার ছেলে শাহাদাত হোসেন আজিম এলাকায় কিছু বখাটের সাথে চলাফেরার কারণে মীরেরশ্বরাই নিয়ে যাই। সেখানে ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজুর বাসায় কাজ করতে দেই। এক পর্যায়ে আমাকে ঢেকে কাউন্সিলর জানান তোমার ছেলে আমার নাম বিক্রি করে বিভিন্ন জায়গায় হুমকি ধামকি দিয়ে চাঁদাবাঁজি করে। তুমি তোমার ছেলেকে ঠিক করো।
করোনাকালীন সময়ে আমার বেকারির চাকুরি না থাকাতে বর্তমানে সেখানে রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করি। গত দুইদিন আগে আমার ছেলে মীরেরশ্বরাই যায়। গতকাল আমার ছেলেকে রাজুর বাহিনী রাত ৮ টার সময় ধরে নিয়ে যায়। কাউন্সিলর রাজু ও তার বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। কাউন্সিলর রাজু আমাকে ভোর চারটায় মোবাইলে জানায় তোমার ছেলে মারা গেছে নিয়ে যাও। কতিপয় সন্ত্রাসীসহ একটি মাইক্রোবাস করে আমি ও আমার ছেলেকে দাগনভূঞায় আমার বাড়ির সামনে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। তার সামনের পাঁচটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলছে।
শরীরের প্রত্যকটি অঙ্গে মারার কালো চিহৃ দেখা যাচ্ছে। পিটিয়ে মারাত্নক ভাবে হত্যা করেছে আমার ছেলেকে। স্থানীয় লোকজন তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ কল করেন এবং ঘটনাস্থল হইতে মরদেহ উদ্বার করেন দাগনভূঞা থানার পুলিশ। এদিকে নিহতের পিতা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন ছেলের নির্মম হত্যাকান্ডে। স্থানীয়রা জানান, নিহতের পরিবার খুবই গরীব এবং নিরীহ মানুষ বিধায় কাউন্সিলর জিয়ার ভয়ে হয়তো কাউকে কিছু বলছেন না যেহেতু নিহতের পিতা মীরেরশ্বরাইতে কাজ করেন। নিহত আজিম হোসেন শাহাদাত
হাসান গনিপুর গ্রামের মিন্টু মেম্বার ( সাবেক ফরিদ মেম্বার) বাড়ির আবদুল বাতেনের ছেলে। ৩ নং পূর্বচন্দ্রপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মিন্টু জানান, শুক্রবার রাতে কোন এক সময় পিটিয়ে হত্যা করে শনিবার সকালে দাগনভূইয়ার হাসান গনিপুর গ্রামে নিহতের বাড়ির দরজার তার মৃতদেহ ফেলে যায়। একটা মাইক্রোবাস মৃতদেহটি রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। নিহতের মুখে ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে মীরেরশ্বরাই ৪ নং কাউন্সিলর রাজুর ব্যবহৃত মোবাইল ০১৮১৮০৭৯৭০৭ নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। দাগনভূঞা থানার ওসি তদন্ত
পার্থ প্রতিম দেব জানান, ৯৯৯ কলের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পিতার অভিযোগে হত্যাজনিত ঘটনা মীরেরশ্বরাই বলা হচ্ছে সে মোতাবেক মামলা মীরেরশ্বরাই থানায় করার প্রক্রিয়া চলছে এবং আমাদের সাথে মীরেরশ্বরাই থানায় যোগাযোগ হয়েছে। প্রাথমিক ধারণামতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মুখে রক্ত ও শরীরের বেশীরভাগ অংশে কাল দাগ রয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.