
গোলাম রব্বানী দুলাল,আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার সান্তাহারে রেলওয়ের মোবাইল কোর্ট অভিযানের রায় নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সান্তাহারে পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান এক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এসময় তিনি রেলওয়ের জমিতে গড়ে উঠা বিভিন্ন স্থাপনা সিলগালা
করেন ও কিছু ব্যবসায়ীর মৌখিক ভাবে জরিমানার একটা রায় দেন। রায়ের পর ভুক্তভোগীরা সান্তাহার এস্টেট বিভাগ কানুনগো কার্যালয়ে আসলে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের সাহায্যে সে রায় উল্টিয়ে দেওয়া হয়। এতে কেউবা সন্তোষ প্রকাশ করেন আবার কেউবা হয়েছেন হতাশ। অনেকে বলছেন বাহিরে এক রায় আর অফিসে আরেক রায়।
জানা যায়, এদিন সান্তাহার রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠা স্থাপনার বাণিজ্যিক ভাবে লাইসেন্স ধারীদের বকেয়া খাজনা এবং লাইসেন্সের বাহিরে অতিরিক্ত জায়গা দখল করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ব্যবসায়ীদের মাঝে রফিক কনফেকশনারির মালিকের ২৫ হাজার টাকা মৌখিকভাবে জরিমানা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান। পরে সেই জরিমানাকৃত টাকা সান্তাহার এস্টেট বিভাগ কানুনগো কার্যালয়ে ৫ হাজার টাকা ধার্য করে। রহমান ফুডস্রে জরিমান করেন ২০হাজার
পরে দেয় ১০হাজার টাকা। হাবিব মেডিকেল ২০হাজার পরে দেয় ১৩ হাজার টাকা। স্টুডিও প্যালেসের ৫০হাজার টাকা জরিমানার ২ঘন্টা পর ৩০হাজারে করা হয়। মৎস্য ভবনে সিলগালা করে তার মালিককে আটক করে নিয়ে যায় কানোনগো কার্যলয়ে পরে দুপুর ৩ টায় তাকে আলৌকিক ভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় দুপুর বেলা সান্তাহার কানুনগো কার্যালয়ে জরিমানাকৃত ব্যক্তিদের ভিড় দেখে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাকে প্রথমে যে জরিমানা করেছিলেন পরে অফিসে গিয়ে অনেক কম দিতে হয়েছে। একই সুরে কথা বলা আরও অনেক ব্যবসায়ী। সচেতন নাগরিক দাউদুল হক বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় জনসম্মুখে যা রায় ধার্য করবে সেটা লিখিত এবং রশিদ দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখি পুরো আলাদা। এমন মোবাইল কোর্ট আমি আগে কখনো দেখিনি। পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান বলেন, কম টাকা দেওয়ারই কোন সুযোগ নাই। মোবাইল কোর্টের আইন আছে সাজা হিসাবে যেটা দেওয়া হয় সেটা জরিমানা। আর রেল রাজস্ব আদায়
করবে সেই টাকার কম বেশি করতে পারি। মোবাইল কোর্ট এক জিনিস আর রাজস্ব আদায় অন্য জিনিস। অনেকের বেশিটাকা জরিমানা করা হয়েছে এখন কেউ বলছে করোনা সময় ব্যবসা ভালো যাচ্ছেনা আবার কেউ হাত-পা ধরতিছে এক্ষেত্রে জরিমানা টাকা কম নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি মোবাইল কোর্টে জরিমানা করতে পারি আবার এস্টেট অফিসার হিসাবে রাজস্ব আদায়ের টাকা কমবেশি করতে পারি। আটকের বিষয়ে জিজ্ঞেসা করতে তিনি বলেন, সতর্ক করার জন্য মৎস্য ভবনের মালিককে আটক করা হয়েছিল পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন
তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন