
গোলাম রব্বানী দুলাল,আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরে কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই। যার ফলে যানযট নিরসনে ভূমিকা রাখার মতো কেউ নেই। সান্তাহার জিরো পয়েন্ট খ্যাত সান্তাহার রেলগেট সংলগ্ন একটি ট্রাফিক আইল্যান্ড থাকলেও সেখানে দেখা যায় না কোন ট্রাফিক পুলিশ। সান্তাহার নাগরিক কমিটি, সান্তাহার প্রেস ক্লাব প্রশাসনের কাছে এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি।
সান্তাহার রেলওয়ে জংশন শহর হওয়াতে সান্তাহার জিরো পয়েন্টে আছে দুইটি রেলগেট। এই রেলগেটই সান্তাহার পৌর শহরের যানযটের অন্যতম কারন। প্রতিটি ট্রেনের আসা-যাওয়ার সময় এই রেলগেট বন্ধ হয়ে যায়। তখন রেলগেটের দুই পাশে ভয়াবহ যানযটের সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এই যানযট নিরসনে কেউ ভূমিকা রাখে না। তাই সান্তাহার বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি দুই জন স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশের। রেলগেটের পূর্ব পাশে একজন এবং রেলগেটের পশ্চিম পার্শ্বে একজন।
সান্তাহার ট্রাফিক আইল্যান্ডটি চৌ রাস্তার মোহনায় অবস্থিত। এই ট্রাফিক আইল্যন্ডের কাছেই রয়েছে সান্তাহার থেকে নওগাঁগামী সিএনজি, টমটম, রিকসা ষ্ট্যান্ড। ফলে রেলগেট পড়ার সাথে সাথে সান্তাহার-নওগাঁ সড়কে দেখা দেয় ভয়াবহ যানযট। কোন নিয়ম নীতি ছাড়াই চলে এখানে বিভিন্ন যানবাহন। সান্তাহার রেলগেটের পূর্ব পার্শ্বে আছে আরেকটি রেলগেট। এখান থেকে কোন নিয়ম নীতি ছাড়াই চলে বগুড়া-সান্তাহারের লোকাল বাস। তাছাড়া এখান থেকে ছাড়ে সিএনজি, টমটম, আছে রিকসা স্ট্যান্ড। ফলে এখানে দেখা দেয় নিত্যদিনের যানযট।
ছোট পরিসরে অনেকগুলি যানবাহনের স্ট্যান্ড হওয়াতে এখানে নিত্যদিন যানযট লেগেই থাকে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়ে নানা বিড়ম্বনায়। তারপরও এখানে আছে রাস্তার দুই পাশে বিপনী-বিতান। সান্তাহার প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া লুলু বলেন, আমরা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দুই জন ট্রাফিক পুলিশের আবেদন করে আসছি।
ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতে সান্তাহার শহর যানযটের নগরে পরিনিত হয়েছে। সান্তাহার টাউন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কারনে ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া যায়নি। তবে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাছাড়া যানযট নিরসনে আমি সান্তাহারবাসির সহযোগিতা চাই। সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বলেন, আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহাদয় ও আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে অবিহত করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমার আন্তরিকতার অভাব নেই।