প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৬, ২০২১, ৪:৪৪ পি.এম
হারিয়ে যাওয়া বাঁশ শিল্পে দুলালের সফলতার গল্প

মিজানুর রহমানঃ বাঁশ শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বাঁশ দিয়ে ঘরের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হতো। আর এসব জিনিসপত্রের কদরও ছিল ভালো। একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে বাঁশ শিল্পের দেখা মিললেও এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য। প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিসহ প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতায় বাঁশ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য বাঁশ শিল্পের ঠিকানা এখন অনেকটাই জাদুঘরে।
এই বাঁশ শিল্পের সাথে জীবন জড়িয়ে গেছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দুলাল হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তির। দুলালের বাবা এই বাঁশ শিল্পের সাথেই জড়িত ছিলেন। পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে দুলালও ২৩ বছর আগে তার বাবার হাত ধরে এই শিল্পকে হাতে তুলে নেন। শিখে ফেলেন বাঁশের হরেক রকম পণ্য তৈরির কাজ। বাবার সাথে তিনিও বাঁশের পণ্য বিক্রি করতে শুরু করেন। বাবা-মা ৬ বোন ও তিনিসহ মোট ৯ জন সদস্য নিয়ে তার পরিবার ছিলো। বয়সের ভাড়ে বাবা সংসারের
বোঝা বহন করতে হিমসিম খাওয়ায় তিনি হাল ধরেন সংসারের। বাঁশ দিয়ে বাহারি রকমের পণ্য তৈরি করে বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ও গ্রামে গ্রামে বিক্রি করেন। এই উপার্জনেই ৬ বোনের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন দুলাল। ২০ বছর বয়সে বিয়ে করেন তিনিও এরপর তাদের ঘর আলোকিত করে আসে এক ছেলে ও মেয়ে। দুলাল হোসেন উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী এলাকার ফটিক আলীর ছেলে। বাঁশের কারিগর দুলাল হোসেন বলেন, অনেক ছোট থেকে এই শিল্পের সাথে জড়িত।
অভাবের সংসার তাই বাবার সাথে আমিও এই পেশায় যুক্ত হয়েছি। এই বাঁশের পণ্য বিক্রি করেই সংসার চলে। বাঁশ দিয়ে ৩০ প্রকারের পণ্য তৈরি করি। যখন মৌসুম থাকে তখন প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ হাজার ও অন্য সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এবং দৈনিক ৮শত থেকে ১ হাজার টাকা বিক্রি করি। এই উপার্জন দিয়ে আমার সংসার চলতেছে। এক সময় নিজের কোন জমি জায়গা ছিলো না এখন এই কাজ করে নিয়েছে কয়েক শতক জমি সব কিছু নিয়ে ভালো আছি। হারিয়ে যাওয়া বাঁশ শিল্পকে ধরে রেখে নিজের সাফল্যের গল্প এভাবেই শোনান দুলাল।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.