
এমদাদুল ইসলামঃ মোবাইল ম্যানিয়া ও "অটোপাশ'- কী হবে ভবিষ্যতে? ভয়াবহ করোনা আমাদের সার্বিক জীবন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে উলট-পালট করে দিয়েছে। গত প্রায় দেড় বছর যাবত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, এমনকি কোচিং ক্লাশও, যদিও কিছুক্ষত্রে অনলাইনে ক্লাশ হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে বাচ্চাদের বাহিরে বা মাঠে যাওয়া এবং খেলাধুলাও বন্ধ। ফলে উপর্যুপরি লকডাউনে ও ঘরমুখো হয়ে শিশু ও তরুনরা মোবাইল ফোন নির্ভর হয়ে পড়েছে।
শুধু শিশু-তরুন নয়, আমরা আয়- বুড়োদেরও একই অবস্থা। আমার ছোট্ট দুই নাতনি'রও হাতে সর্বক্ষণ মোবাইল অর্থাৎ বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই 'মোবাইল ম্যানিয়া'য় আক্রান্ত।
সংবাদে প্রকাশ, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ঘরবন্দী হয়ে শিশু-তরুনদের চোখে দিনের আলো কম পড়া, অনলাইনে ক্লাশ করা ও বিরতিহীনভাবে মোবাইলের পর্দায় সময় কাটানোর কারণে ক্ষীণদৃষ্টি বা দুরে দেখার ক্ষমতা কমে গেছে ও যাচ্ছে। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে এই রোগটির নাম হল- "মায়োপিয়া"। এই রোগের কারণে প্রায় সকলের মাথা ও চোখব্যথাসহ চোখের পাওয়ার হ্রাসসহ দৃষ্ঠিশক্তি লোপ পাচ্ছে। আর ভবিষ্যতে এসব বাচ্চাদেরকে চশমা ছাড়া উপায় নেই! একি অবস্থা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়ও।
গত বছরতো বিনা পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে দেয়া হয়েছে। 'অটোপাশ' দেয়া হয়েছে অন্যান্য সকল ক্লাশেও। তারপর দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও সরকার আর স্কুল-কলেজ খুলে দিতে পারেনি। কখন যে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, তাও অনিশ্চিত, যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী 13 জুন থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে আগ্রহী!! আর ইতিমধ্যে ঘোষিত হয়েছে--চলতি ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি এর সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা নেয়ার কর্ম পরিকল্পনা।
এই অবস্থায় বর্তমান প্রজন্মের শিশু-তরুন ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত যে কী হবে, তা খুবই চিন্তের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে? যদিও দেশ-বিদেশের কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে ডিগ্রী দিচ্ছে ও কনভোকেশন চালিয়ে যাচ্ছে।
বাস্তবে এভাবে ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট পাওয়া যুবকরা ভাল বা কাঙ্খিত কোন চাকুরী পায় কিনা, তাও সন্দেহ ও সংশয়ের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে !!