হোম » প্রধান সংবাদ » ভৈরবে কিশোর গ্যাংয়ের দলীয় কোন্দলে একজন খুন

ভৈরবে কিশোর গ্যাংয়ের দলীয় কোন্দলে একজন খুন

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একে এম মহিউদ্দিন ভূইয়া প্রবাল (১৯) নামে এক যুবক খুন হয়েছে। গতকাল ১জুন মঙ্গলবার রাতে ভৈরব থানা পুলিশ প্রবালের মরদেহ ভৈরব দূর্জয় মোড় এলাকার সরদার হোটেলের পিছনের একটি দোকান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রবাল রায়পুরা থানার মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হোসেন ভূইয়ার ছেলে বলে জানা যায়। হোসেন ভূইয়া ভৈরব মাতৃকা হাসপাতাল ও বিল্ডিংয়ের মালিক।
পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে ভৈরবেই তাদের বসবাস। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে সরদার হোটেলের পিছনের গলিতে মারামারীর ঘটনায় নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ তল্লাশী চালায় মূল ঘটনা কি? কিন্তু কোন প্রকার তথ্য না পেয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে   অবশেষে সরদার হোটেলের পিছনে মানিক মটরস নামে একটি বন্ধ দোকান সন্দেহ হলে পুলিশ তালা ভেঙ্গে দেখতে পায় যে একটি লাশ পড়ে আছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়ে এনে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক ভাবে খুনির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
 নিহতের বাবা হোসেন ভূইয়ার (চেয়ারম্যান) দাবী প্রবালকে জিল্লু মিয়ার ছেলে অন্তর খুন করেছে। তিনি আরো বলেন যে, অন্তর দীর্ঘদীন যাবত আমার ছেলের নিকট বিভিন্ন ভাবে চাঁদা দাবী করে আসছে। আজকে আমার ছেলে দুপুরে মোটর সাইকেল নিয়ে বের হলে মোটর সাইকেলটি নিয়ে গিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে অন্তর। আমি আইন প্রশাসনের নিয়ে আমার ছেলে কে হত্যার বিচার দাবী করছি। অপর একটি সূত্রে জানা যায় যে, প্রবাল অন্তর লাল বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিল। তাছাড়া প্রবালের আলাদা একটি বাহিনী ছিল। দুই বাহিনীর প্রভাব বিস্তারের কোন্দলে ও চাঁদাবাজির টাকা নিয়ে বিবাদের কারনে এমন ঘটনাটি ঘটেছে বলে অনেকে মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তাছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নূরে আলম, পিবিআই ও ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ সুরত হাল করে লাশ থানায় এনে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেন। এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয় ঘটিকার দিকে একটি তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দূর্জয় মোড়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ
করতে করতে একটি দোকান সন্দেহ হলে তালা ভেঙ্গে একটি লাশ পাওয়া যায়। নিহতের লাশ সনাক্ত হয়েছে। তথ্য ছিল বিকালে একটি মারামারী হয়েছে এবং একটি ছেলে মারা যেতে পারে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তালাবদ্ধ দোকানটি তল্লাশী করে প্রবালের লাশ পাওয়া যায়। লাশ সুরত হাল করে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে। কোন আসামী এখনো ধরা পড়েনি। তবে খুনি যেই ই হোক না কেন, ধরা তাকে পড়তে হবেই। উক্ত ঘটনায় খুনীর সাথে সঙ্গী সাথী থাকলে তারাও ধরা পড়বে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!