
শহর প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে তানজিদা আক্তার পপি (২৫) নামের এক দুই সন্তানের জননীকে দুই হাত বেঁধে জবাই করে হত্যা করেছে স্বামী হীরা চৌধুরী (৩০)। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার পূর্ব লামাপাড়া এলাকায় একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী হীরা চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্বার করা হয়। নিহত পপি বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত আলী আশরাফের মেয়ে এবং ঘাতক হীরা চৌধুরী ফতুল্লার পূর্ব লামাপাড়ার ওমর চৌধুরী তুহিনের পুত্র। তাদের ঘরে তুষাত (১০) ও তোয়াফ (৬) নামের দুটি পুত্র
সন্তান রয়েছে। পপির মা জানায়, তেরো বৎসর পূর্বে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে আসছিলো। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সব সময় চাহিদা পুরণের চেষ্টা করতো। মেয়ের সুখের জন্য জমি বিক্রি করেও টাকা দেয়া হয়েছে। হত্যাকান্ডের আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরেও তার মেয়র শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এসেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে তাদেরকে ফোন করে জানানো হয় তার মেয়ে শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন তার মেয়েকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক জাকির মাসুদ জানায়, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত গৃহবধূর হাত বাধা রক্তাক্ত দেহ উদ্বার করে
হাসপাতালে পাঠায়। পরে পাশের রুমে আত্মগোপন করে থাকা ঘাতক স্বামী হীরাকে আটকসহ হত্যাকান্ড ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্বার করি। নিহত পপিকে হাত বেঁধে গলায় ও ঘাড়ের পিছনে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী হীরা চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়াও মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।