প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৬, ১০:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০২১, ৯:০২ পি.এম
নানাবিধ জটিলতায় ভর্তির আগ্রহ হারাচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ শিক্ষার মানের নিম্নমুখিতা,গতানুগতিক ভর্তি প্রক্রিয়া,শিক্ষক-ছাত্র রাজনীতি, অবকাঠামো ও আবাসন সঙ্কট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়,গত ২০১৮ সালে ২০০ জনের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিলো সেখানে ২০১৯ সালের ইউজিসি প্রতিবেদনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ জন।বর্তমানে প্রায় ১৩৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ২০১৪ সালে ভর্তি হয় ২২ জন,পরের বছর ২০১৫ সালে ৪২ জন, ২০১৬ সালে ৫৯ জন, ২০১৭ সালে ৬১ জন, ২০১৮ সালে ৬১ জন, ২০১৯ সালে এসে তা কমে দ্বারায় ২৫ জন এবং ২০২০ সালে ভর্তি হয় মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশন থাকলেও নেই অফিস রুম, নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু একজন ইনচার্জ দিয়েই চলছে এই সেকশন।এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসিক হল নির্মাণের কথা থাকলেও এখনো কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল হল সূত্রে জানা যায়, আবাসিক হলে সর্বোচ্চ ১৪০ জন বিদেশি ছাত্রদের জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে।তবে বর্তমানে ১০৫ জন ছাত্র হলে অবস্থান করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা অন্যদেশের শিক্ষার্থীর সাথে রুম শেয়ার করতে চায় না। এমনকি তারা একটি রুমে একজন করে থাকতে চায়।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩৫ জন বিদেশি মেয়ে শিক্ষার্থী অবস্থান করছে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমাদের এখানে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটা দেরিতে হয়।দেখা যায় ক্লাস শুরুর ২/৩ মাস পর তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়। তখন তাঁরা আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমি দেখেছি আমেরিকায় যদি সেপ্টেম্বর সেমিস্টারে ভর্তি নেয় তাহলে তাঁরা গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেয়।তাহলে শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে ভর্তি হতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে এমন হয় না।এভাবে চলতে থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।ভর্তি কমিটির সভায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনকে ডাকা হয়না।আমি কিছু জানতে পারি না কখন মিটিং হচ্ছে কখন সিদ্ধান্ত হচ্ছে। ভর্তি কমিটিতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনের প্রধানকে সদস্য হিসেবে রাখা হয় না।এদিকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনের নেই অফিস রুম, এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীও নেই এই শাখায়।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ ফজলুল হক বলেন,গত ১ বছরের বেশি সময় ধরে করোনা পরিস্থিতির জন্য এমনটা হতে পারে।তবে আমরা শিক্ষার্থীদের গুনগত দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক একটি ইন্টারন্যাশনাল হল তৈরি করা। আর আবাসন সংকট না থাকলে এমনিতেই অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.