প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:১৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০২১, ৮:৫৪ পি.এম
জীবননগরে পৌর কাউন্সিলর খোকনের গুন্ডা বাহিনীর হামলার শিকার সাংবাদিক মামুন মোল্লাসহ আহত ৮

মোঃতারিকুর রহমান প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৌর কাউন্সিলর খোকনের গুন্ডা বাহিনীর হাতে সাংবাদিক মামুন মোল্লা সহ আরো ৮ জন ব্যক্তি হামলার শিকার হয়েছে। জানা গেছে, ৯ ই এপ্রিল (শুক্রবার) বাদ এশা নামাজ পরবর্তী পূর্বনিধারিত সময়ে ইসলামপুর গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গনে মসজিদ কমিটি ভেঙে ঈদগাহ কমিটি,মাদ্রাসা কমিটি এবং কবরস্থান কমিটিসহ মোট চারটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় এলাকাবাসী। আর সেখানে এলাকাবাসীর অনুমতি না নিয়ে জীবননগর পৌরসভার নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোকন আগে থেকেই একটি পকেট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। উক্ত কমিটিদ্বয়ে অযোগ্য
ব্যক্তিদের কমিটিতে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কাউন্সিলর খোকন । এসময় প্রথম গঠন করা হয় ইসলামপুর গ্রামের মাদ্রাসা কমিটি। সেখানে জীবননগরে কথিত জামাত ইসলামের সদস্য আলফাজ উদ্দীন মাস্টারকে সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক হিসেবে ফারুক খোড়ার ছেলে হামিদ ও কোষাধ্যাক্ষ হিসেবে মৃত হাসেম মালের ছেলে কাশেম কে নিজস্ব গুন্ডা বাহিনীর ক্ষমতাবলে কমিটি ঘোষনা করে। পরবর্তীতে গঠন করা হয় কবরস্থান কমিটি। সেখানে টাকা পয়সা মানুষ বেশী দান করে এবং সরকারী অনুদান আসে।
এজন্য কাউন্সিলর নিজে এখানে জোরপূর্বক জনগনের মতামত না নিয়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এবং সাধারন সম্পাদক হিসেবে মাদক সেবনকারী ও উৎশৃঙ্খল পরিবারের ছেলে উজ্জল কে দায়িত্ব দিতে গেলে গ্রামবাসী তা মেনে নিতে নারাজ হন । তখন বাধ্য হয়ে ইসলামপুর আল আকসা মসজিদের জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সন্তান আব্দুল মান্নান কে উক্ত পদের দায়িত্ব দেন। এরপর কাউন্সিলর খোকন উজ্জ্বল কে আবার কোষাধ্যক্ষের পদের জন্য মনোনীত করেন । এখানে তিনি অযোগ্য ব্যক্তি উজ্জ্বল কে দায়িত্ব দিতে গেলে গ্রামবাসীর মধ্য হতে চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আলামিন বলেন একজন সিনিয়র মানুষকে ওই পদের দায়িত্ব
দিলে ভালো হয়। তখন তার সাথে একই এলাকার ফারুক খোড়ার ছেলে হামিদ মুন্সী আলামিন কে ওই কথা বলার পর ধামকী দিতে থাকে। এমতাবস্থায় কাউন্সিলর খোকনের ইন্ধনে মোহাম্মদ আলী মৃধার ছেলে কাওসার মৃধা(২০) কাউন্সিলর খোকনের ছেলে তুষার (২২) ও তার ভাগ্নে বাচ্চুর ছেলে উজ্জল (২৩) আলী হোসেনের ছেলে মোঃ হোসেন (৩৫) লাল মোহাম্মদ লালু (৬০) এবং খলিল(৪৫) ও তার ছেলে সামিউল (২০) মিনজুলের ছেলে উজ্জল (২৯) বাতেন খন্দকারের ছেলে জিয়া(৩৪) মনির
হোসেনের ছেলে রাওয়াজ (১৮) মৃত বিল্লালের ছেলে আলমগীর (৩২), মৃত আব্দুল হকের ছেলে আব্বাস (৩২)ও নজরুল (৩৭) কালু মৃধার ছেলে বজলু মৃধা (৩৫) মোঃ জাকির (৪০) মৃত বাবুর আলীর ছেলে ফজলু, আলী সর্দারের ছেলে সোবহান(৪০) আলামিনের ওপর হামলা চালায় এসময় আলামিন মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লে তার পাশে থাকা মামাতো ভাই সাংবাদিক মামুন মোল্লা হামলাকারীদের বাধা প্রদান করলে এসময় সাংবাদিক মামুন মোল্লাকে ও হামলার শিকার হতে হয়। এসময় প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্খীদের মধ্য হতে সাংবাদিক মামুন কে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে ইদ্রীস আলীর ছেলে রকি, মোজাফফর হোসেনের ছেলে
আয়নাল, সুরুজ আলীর ছেলে শাহীন , আব্দুস সাত্তার (৭০) হাফেজ আলী পাইকের ছেলে ইনামুল ও নাজমুল এবং সাংবাদিক মামুন মোল্লার পিতা আব্দুল মান্নান তাকে মারাত্মক অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা সাংবাদিকের বাড়ির গেট ও প্রাচীর ভাংচুরসহ লুটপাট চালায়। এসময় উদ্ধারকারীদের ওপরও হামলা চালায় খোকনের গুন্ডাবাহীনীর সদস্যরা। এতে সেখানে সাংবাদিক মামুন সহ ৫ জন আহত হয়। এসময় সাংবাদিক মামুন এর চাচার বাড়িতেও হামলা করে কাউন্সিলর খোকনের গুন্ডা বাহিনীর সদস্যরা। এদের হামলায় ছাফিয়া নামের এক শিশুটির মাথায় আঘাত করা সহ বয়স্ক মুরুব্বি আব্দুস সাত্তারকে হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে। এবং শিশু সাফিয়ার মা সোনিয়া খাতুনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তাদের ঘরে লুটপাট চালায়।
সাংবাদিক মামুন মোল্লা স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভি, দি বাংলাদেশ টুডে, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ পত্রিকা এবং দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তর গনমাধ্যম সিএনআই এর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির দায়িত্ব দীর্ঘদিন সুনামের সাথে পালন করে আসছেন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।হামলা শিকার সাংবাদিক মামুন এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য জীবননগর থানায় ফোন দিলে পুলিশ এসে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সাইফুল ইসলাম জানান এঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এবং এ সময় পক্ষ বিপক্ষের সাতজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিক মামুন মোল্লা জানান জীবননগর পৌর মেয়র জনাব রফিকুল ইসলাম ও কাউন্সিলর জয়নাল হোসেনের আশ্বস্ত করেন এবং থানায় মামলা দিতে বাধা প্রধান করেন। পরবর্তীতে শনিবার বাদ আছর ইসলামপুর মসজিদ প্রাঙ্গনে পৌর মেয়র জনাব রফিকুল ইসলাম ও কাউন্সিলর মোঃ জামাল হোসেন খোকন, আবুল কাশেম, জয়নাল উদ্দীন, আপিল মাহমুদ, সহ সাবেক মেয়র
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সী নাসির উদ্দীন, এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা বিষয়টি মিমাংসা করার উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক মামুন জানান ঘটনাটি কোন ন্যায্য বিচার না করেই প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিক মামুন সঠিক বিচারের দাবী জানালে জীবননগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা খারাপ ভাষায় হুমকী প্রদান করতে থাকেন এবং সাংবাদিক মামুন কে তিনি দেখে নেওয়ারও হুমকী দেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবর ও সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ডালিম কে অবহিত করা হলে তারা সাংবাদিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.