
উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় সরকারি ইজারা দেয়া পুকুরে মাছ চাষাবাদে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের বেড়া পাতিয়া মৌজায় সরকারি ২.৮৩ একর পুকুর নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।
জানা যায়,সরকারি ওই পুকুরটি দীর্ঘদিন আগে মৎস্য বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে দুই বার খনন করা হয়। এরপর থেকে পুকুরটি উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা নিয়ে ইজারা দিয়ে আসছে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে পুকুরটি সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি পুকুরটি ইজারা নিয়ে সেখানে মাছ চাষাবাদ করছে।
পুকুরটি বর্তমানে স্থানীয় হাটখোলা বামনগ্রাম ও পাতিয়াবেড়া মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সহ সদস্যরা সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১৪২৭-১৪২৯ বাংলা সনের ইজারা নিয়ে সেখানে মাছ চাষাবাদ করছে। অতি স¤প্রতি সরকারি ওই পুকুরের মধ্যে জনৈক ব্যক্তির ২৪ শতক সম্পত্তি দেখিয়ে তা ক্রয় করেছেন বলে দাবী করেন রুদ্রগাঁতী গ্রামের মোঃ শাহাদত হোসেন। সে ওই সম্পত্তির দলিল করার পর পরই সরকারি পুকুরের একাংশে বাঁশ পুতে মাছ চাষাবাদে বাধা এবং দখল নেয়ার চেষ্টা করে। এবং পুকুরের মাছ চাষ করা সমিতির সভাপতি সহ সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেয় তারা। সে এবং তার লোকজন
মিলে সরকারি ইজারা দেয়া পুকুরে মৎস্যজীবিদের চাষ করা মাছ মেরে নেয়ার হুমকি দেয়। এমন অভিযোগ তুলে হাটখোলা বামনগ্রাম ও পাতিয়াবেড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির পক্ষে সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ৭ জনকে আসামী করে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট আদালতে পুকুরটিতে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে মামলা দায়ের করে। মমলার আসামীরা হচ্ছে-উপজেলার রুদ্রগাঁতী গ্রামের শামছুজ্জোহা ওরফে তারা প্রামানিকের ছেলে শাহাদত হোসেন ওরফে শাহেদ আলী,শাহিন আলম,আব্দুস সোবাহান,আমিরুল ইসলাম,আল মাহমুদ ও একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে রেজাউল করিম ও
আইয়ুব আলী। দায়ের হওয়া মামলা প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ২০ জানুয়ারি পুকুরের দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়ে উল্লাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে চিঠি দেন। উল্লাপাড়ার সহাকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান গত ২১ মার্চ সরেজমিন ওই পুকুর পরিদর্শনে যান। বাদী বিবাদী সহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তিনি তদন্ত করেন। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রটের নিকট তিন সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন উপজেলার বেড়া
পাতিয়া মৌজার খতিয়ান নং আরএস ০১ দাগের আর এস ২৩৩ দাগে ২.৮৩ ভূমি। বাদী উপজেলা জল মহাল ইজারা কমিটির নিকট থেকে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১৪২৭-১৪২৯ বাংলা সন পর্যন্ত তিন বছরের সমুদয় ইজারা মূল্য,১৫% ভ্যাট,৫% আয়কর চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রিয় কোষাগারে জমা দিয়ে ইজারা নিয়ে মাছ চাষাবাদ করে ভোগ দখলে আছে। বিবাদী তদন্তকালে মৌখিকভাবে জানায় সম্পতির মধ্যে ০.২৪ শতক ক্রয় করেছেন। সরেজমিনে নালিশি সম্পত্তির একাংশে বিবাদী ৪/৫ টি বাঁশ পুতে রেখেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাদত হোসেন গংরাও পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। মামলায় পুকুরটিতে মাছ চাষ করা সমিতির সভাপতি ও সদস্যদের ৬ জনকে আসামী করা হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়,উক্ত সরকারী পুকুরটি দীর্ঘদিন আগে খনন করা হয়। এরপর থেকে সরকারী কোষাগারে অর্থ জমা নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা সেখানে মাছ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সরকারি এই পুকুরের মধ্যে এতোদিন পর কিভাবে ব্যক্তি সম্পতি থাকে?? এবং সেটি কিভাবে দলিল করে দখল নেয়ার চেষ্টা করা হয়??? তা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেন তারা।