প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৩:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৯, ২০২১, ৪:২৮ পি.এম
পেকুয়ায় ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগে বহিস্কৃত চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীক ভাগিয়ে নিতে মরিয়া

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়ায় আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টইটং ইউপির নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া হয়ে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন সরকারী চাল আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যান ও দলীয় পদ হতে বহিস্কৃত জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। ইতোমধ্যে জেলা আ’লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে কেন্দ্র বরাবর তার নামটি প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গত বছরে জুলাই মাসে করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন মানুষের সরকারি দেওয়া ত্রাণ (চাল) চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বিতরণ না করে নিজেই আত্মসাত করেছেন। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ জাহান আলী সরেজমিন তদন্তে চাল চুরির অভিযোগ প্রমানিত হয়। সাবেক জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনের নির্দেশে পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি ত্রান চুরি করে
বিক্রির অভিযোগে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে চাল চুরি ও মামলার কারনে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান অভিযুক্ত জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে টইটং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হতে বহিষ্কার করেন। বহিস্কার আদেশ এখনো পর্যন্ত বলবৎ আছে। অন্যদিকে গত ২৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ টইটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার ফলে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই থেকে প্যালেন চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরো জানা গেছে, ইউনিয়ন আ’লীগ থেকে তাকে বহিস্কার করা হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না নিয়ে তৃণমূল থেকে তার নিকটতম আত্মীয় সভাপতি সওয়ার কামাল ও শাহাব উদ্দিনের নামসহ তার নামটি নৌকার মনোনয়নের জন্য জেলা কমিটি বরাবর পাঠানো হয়। অথচ সভাপতি সরওয়ার কামাল জামায়াত নেতা হাসান শরীফের চাচাতো ভাই ও শাহাব উদ্দিনের শ্যালক। সরওয়ার আর শাহাব উদ্দিন মামাতো আর ফুফাতো ভাই। এছাড়াও মেহেদী হাসান ফরায়েজী বহিস্কৃত চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী আপন মামাতো ভাই। তারেকেই নৌকার মনোনয়নের জন্য নাম প্রস্তাব করেছে জাহেদ এর নেতৃত্বে ইউনিয়ন আ’লীগ।
স্থানীয়রা জানায়, চেয়ারম্যান থাকাকালে দলের প্রভাব কাটিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। গত ১১ জুন ২০১৬ সালে প্রেম করার অপরাধে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করলে মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। ৩ মার্চ ২০১৮ সালে নাপিতখালী এলাকায় এক বৃদ্ধা নারীকে মারধর করলে হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় এ সংবাদকর্মী বাদী হয়ে আদালতে তার
বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন। লোহা চুরির অভিযোগে ট্যাক্সিচালক মোকাদ্দেসকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তার এ অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গড়ে তুলে দা-বাহিনী নামে আলোচিত এক বাহিনী। ইতোমধ্যে এ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড নাসির অস্ত্র জমা দিয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করেন। এছাড়াও পাহাড় কর্তন, বালু উত্তোলন, সরকারি বনভূমি জবর দখল করে কোটি কোটে টাকার মালিক বনে গেছেন। চেয়ারম্যান হতে না হতেই ৩০লাখ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করেন প্রাইভেট গাড়ি। পৈত্রিকভাবে জায়গা মালিক না হলেও বর্তমানে দুইটি বিলাস বহুল মার্কেট তৈরি করে চলাফেরা করেন রাজকীয়ভাবে। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।
নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী এক চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, জাহেদ চৌধুরী সরকারি চাল আত্মসাতকারী। তিনি দলকে ডুবিয়েছেন এবং দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারন জনগনকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করে দলের ইজ্জতের চরম ক্ষতি করেছেন। দল তাকে আবার মনোনয়ন দিলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। পাহাড় দখল, জমি দখল, চাল চুরি, বিচার বাণিজ্যসহ অনেক অনিয়ম করেছেন বিধায় আজ দল তাকে বহিষ্কার করেছেন। বহিস্কৃত নেতা মনোনয়ন পাবে না এটা সকলের নিশ্চিত।
এ বিষয়ে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সাবেক ইউএনও কৌশল করে আমার সাক্ষর নিয়ে চালগুলো আত্মসাত করেছে। মামলা হলেও আমি আইনিভাবে মোকাবেলা করছি। আমি ইনশাল্লাহ নির্দোষ প্রমাণিত হবো। আর অন্যান্য অভিযোগগুলো আমার বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত। টেটং ইউনিয়নকে উন্নয়ন দিয়ে আমি ৫০ বছর এগিয়ে নিয়ে গেছি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.