
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালের প্রধান ফটকের (১০ গজের) মধ্যে গড়ে উঠেছে দি থাইরোকেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার। এতে সরকারী হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ও প্রতারিত হচ্ছে সরকারী হাসপাতালে আসা রোগী। সেখানে বেশ জোরেসোরেই স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা চলছে বলে নানা অভিযোগ রয়েছে। সরকারী হাসপাতালে আসা রোগীদের ভাগিয়ে নিতে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে দালাল। রোগি প্রতি কমিশনে কাজ করছে তারা। তারপর নির্বিকার প্রশাসন। হাসপাতাল স্থাপনে দুরুত্ব নীতিমালা না থাকায় কিছুই করার নেই বলছে
কর্তপক্ষ। সোমবার (১ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জেলার উলাপাড়া উপজেলার বড়হর গ্রামের রোগী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সকালে সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো জন্য এসেছি। কিন্তু হাসপাতালের গেটে আসলে আমাকে অপরিচিত এক ব্যক্তি বলে আপনার কি সমস্যা। আমি বলি ভালো ডাক্তারকে দেখানো জন্য এখানে এসেছি। তখন তিনি বলে আপনি দি থাইরোকেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে যান ঐখানে
ভালো ভালো ডাক্তার বসে। আমার পরিচিত সমস্যা হবে না আসেন। তখন আমি ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডাঃ মোঃ সেলিম রেজাকে দেখায়। ডাক্তার আমাকে দেখে বিভিন্ন টেষ্ট দেয়। পরে আমি ডাক্তারের ভিজিটসহ বিভিন্ন টেষ্টের জন্য তিন হাজার টাকা বিল দেয়। এদিকে দি থাইরোকেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের পরিচালক ইমরুল হাসানকে সরকারী হাসপাতালের আউটডোর থেকে প্রকাশে প্রতিদিন রোগিকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই হাসপাতালের কোন দালাল
নেই। এই ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। সরকারী হাসপাতালের সামনে এই ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের গড়ে তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালের ডাঃ মোঃ সেলিম রেজাসহ ৫জন, নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপালের ৫জন ডাক্তার রোগি দেখেন। এই প্রতিষ্ঠানে ১১জন পার্টনার রয়েছে। সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে ভিজিট করার পর গত অক্টোবর ২০২০ সালে সরকারী অনুমোদন পেয়েছি। অপর দিকে চিকিৎসা নিতে
রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী গ্রামের সোহান রানা বলেন, আমার পেটে ব্যাথা আমি চিকিৎসার জন্য সরকারী হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে আসলে দুই/তিন আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। পরে আমি কোন উত্তর না দিয়ে ডাক্তারকে দেখানোর জন্য হাসপাতালের ভিতরে যায়। পরে আমি ডাক্তার মাহবুবুল আলমকে দেখেন। সে আমাকে একটি চিকিৎসা পত্র দেয়।
আমি তার রুম থেকে বের হওয়া মাত্র আমাকে চার দিকে ঘিরে ফেলে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তবে আরো অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারী হাসপাতালের কিছু কর্মচারী- কর্মকর্তার যোগসাজসে সরকারী হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন সময়ে শিশু চুরি, রোগিদের অন্য বেসরকারী কিèনিক বা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, গত (২৩ ফেব্র“য়ারী) সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের বাচ্চা (মাহিম) ও গত শনিবার (২৭
ফেব্র“য়ারী) বিকেলে সলঙ্গা থানার সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে জন্মের ৭ ঘণ্টা পর (সামিউল) নামের এক বাচ্চা চুরি করে। পরে শনিবার (২৭ ফেব্র“য়ারী) রাতে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া এলাকা অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে মাহিম কে মৃত এবং সামিউলকে জীবতি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত চোর চক্রের ৫জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারী
হাসপাতালের আউটডোর থেকে প্রকাশে রোগিদের ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সম্প্রতি দুই দালালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিলো। আমাদের এই অভিযান চলমান আছে। যদি এই ধরণের ঘটনা কেউ করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারী হাসপাতালের সামনে ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের ব্যাপারে তিনি বলেন, কোন নিয়ম আছে কিনা আমার জানা নেই। আপনারা সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলেন। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন,
সরকারী হাসপাতাল থেকে বেসরকারী ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের দুরুত্ব কত থাকতে হবে এই রকম কোন নীতিমালা আমার জানা নেই। তবে আমরা ভিজিট করার সময় উলেখ করে দিয়েছি সরকারী হাসপাতালের সামনে।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল