প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১:০৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
জামালপুরে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল

রবিউল হাসান লায়ন,জামালপুর: পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের মামার বাড়ি কবিতা আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ে যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ পংক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ।বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
রঙিন বন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে। তেমনি সাজে সেজেছে জামালপুরের ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলা বিভিন্ন এলাকার আম বাগানগুলো। গাছ জুড়ে আমের আগাম মুকুলের ঘনঘটা। পাতা দেখার যেন উপায় নেই। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর সুগন্ধ। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে গাছগুলোতে। মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া, ঝাউগড়া, ফুলকোচা, চরবাণী পাকুরিয়া ইউপির গ্রামগুলোতে গাছে গাছে আমরে মঞ্জুরি। দৃশ্যগুলো যে কাউকেই কাছে টানবে।
জেলার মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউপির চাড়ালকান্দি গ্রামের আম গাছের মালিক মালেক আফসারী বলেন, আমার বড় বড় আম গাছ আছে। অধিকাংশ গাছই এরইমধ্যে মুকুলে ছেঁয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম হওয়ায় মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। ঝাউগড়া ইউপির পলাশী গ্রামের ছামিউল আলম বলেন, এবার আমার বাগানের গাছে গাছে প্রচুর আমের মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর সুগন্ধ। বাগান জুড়ে আম গাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। গাছে গাছে অজস্র মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
ইউনিয়নগুলোতে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছি। আম চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। উপযুক্ত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে প্রস্তুত আছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গাছে মুকুল আসার ১৫ দিন আগে পর্যাপ্ত স্প্রে দিতে হবে। মুকুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ হতে পারে। তবে এ বছর কুয়াশা তেমন একটা নেই। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাগণ নিয়মিত খোঁজ খবর নিয়ে বাগান মালিকদের পরামর্শ দিচ্ছে। যথাযথ পরিচর্যা না করলে ঝরে পড়ে আমের ফলনে ক্ষতিপ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি জানান।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.