
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঘরের দরজার সামনে থুথু ফেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে বল্লমের আঘাতে এক চাচাতো ভাইয়ের হাতে অপর চাচাতো ভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদরের মোগলটুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের নাম রুহেল মিয়া (২৬)। তিনি মোগলটুলা গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত নিহত রুহেল মিয়ার আপন চাচা গেন্দু মিয়া (৫০) ও চাচি মোমেনা বেগম (৪৬)’কে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন খন্দকার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী লোকদের বরাত দিয়ে তিনি দৈনিক গণমানুষের আওয়াজকে জানান‘মোগলটুলা গ্রামের লিয়াকত আলী ও গেন্দু মিয়া আপন দুই ভাই। পরিবার নিয়ে নিজেরা আলাদা থাকলেও তারা একই বাড়িতে বসবাস করেন। মঙ্গলবার সকালে গেন্দু মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া চাচাতো ভাই রুহেল মিয়ার ঘরের দরজার সামনে থুথু ফেলে। এনিয়ে রুহেল মিয়ার সঙ্গে চাচি মোমেনা বেগমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।
সন্ধ্যায় মোমেনা বেগমের স্বামী কাজ থেকে ফিরলে এবং তার ছেলেরা ঝাল মুড়ি ও আচার বিক্রি শেষে বাড়িতে ফিরে আসলে তিনি সকালের বাকবিতন্ডার কথা তাদের জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে গিয়ে রুহেল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে গেন্দু মিয়ার ছেলে আবু বক্কর (১৯) বল্লম দিয়ে চাচাতো বড় ভাই রুহেল মিয়াকে আঘাত করে। এতে রুহেল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে বাড়ির লোকজন তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে রুহেল মিয়া মারা যান।’
এসআই জাকির হোসেন খন্দকার আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের চাচা গেন্দু মিয়া ও চাচি মোমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তারা এ খুনের ঘটনার সাথে জড়িত; তাদের শরীরে ও পরিহিত কাপড়ে রক্তের দাগ রয়েছে।’
সরাইল থানার ওসি আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আহমেদ দৈনিক গণমানুষের আওয়াজকে জানান, ‘নিহতের লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। বল্লম-টেটার আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তুচ্ছ বিষয় থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে