
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ক্লাস না করিয়ে মাসের পর মাস বেতন তোলার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এলিজা সুলতানা অভিযোগের ভিক্তিতে তদন্ত করলেও এক বছরও তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও চার মাস ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
আর এবিষেয়র উপরে দুই দুই বার তদন্ত কমিটি তদন্ত করলেও তদন্ত প্রতিবেদনের কোন ফাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পেরণ করেননি। আর এসব কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা: শামিমা সুলতানা তাকে সহযোগীতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও সরকারি
কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাত করায় ওই শিক্ষকসহ এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার, সদর উপজেলা র্নিবাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গত ০৯.০২.২০২০ইং তারিখে মিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: ফৌজিয়া আলম, সহকারী শিক্ষক মো: লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে গত ১৪.১০.২০১৯ইং তারিখ থেকে প্রায় চার মাস বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্ণ বেতন-ভাতা উত্তোলন করছে বলে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০/০২.২০২০ ইং তারিখে স্মারক নং-০৫.৪৩.৮৮৭৮.০০.০৩. ০৩১.২০-৩৩৩ তে আবেদনের উলিখিত অভিযোগের তদন্ত পূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রাহণ করে তদন্তের রিপোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসারকে।
১৩.০২.২০২০ইং তারিখে স্মারক নং-৩৭.০২.৮৮০০.০০০.১৬.০০৪.২০.২০.৬৭ জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শফিউলাহ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানাকে দাখিল কৃত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয় এবং ৭কর্ম দিবসের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। ১১.০৩.২০২০ইং তারিখে স্মারক নং-উমাশিঅ/সদর/সিরাজ/২০/৩৬৯ উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা একটি পত্রে ২২/০৩/২০২০ইং তারিখে বিদ্যালয়ের কক্ষে তদন্তের দিন ধার্য করেন।
সেই তারিখের তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও তদন্ত না করে চলে যায়। পরবর্তিতে একই স্মারকে অভিযোগের তদন্ত ২১/০৭.২০২০ইং তারিখে উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধার্য করেন। কিন্তু সেই তদন্তে উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে কি পেয়েছেন তা আজো জানতে পারেনি কেউ। অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় অভিযোগের কোন সুরাহা না হওয়ায় ও প্রায় এক বছর ধরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ২৬.০১.২০২১ইং তারিখে অভিযোগকারী উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানাকে লিখিত একটি পত্র প্রেরণ করেন।
৩১.০১.২০২১ইং তারিখে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসার এর আদেশ যথাযথভাবে পালন না করায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো: লিয়াকত আলী বলেন, আমি অসুস্থজনীত করনে বিদ্যালয়ে প্রায় চার মাসের মতো উপস্থিত ছিলামনা। বেতন-ভাতাও তুলেছি। আমি সেই সময় থেকে ছুটিতে ছিলাম। আমি সুস্থ হয়ে আসার পর থেকে করোনাকালীন সময়য়ে এমতেই স্কুল বন্ধ ছিলো। আর তদন্তনের বিষয়ে উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসার আগামীকাল আমাকে তার অফিসে ডেকেছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা বলেন, আমি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় ও করোনার সময় স্কুল বন্ধ থাকায় তদন্তটি করতে একটু বেশী সময় লেগেছে। দুই এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েদেব। নানা সমসার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনটি দিতে এতো সময় লেগেগেলো। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক মোছা: শামিমা সুলতানা বলেন, শিক্ষক লিয়াকত আলীর বিষয়ে কোন মন্তব্য করবোনা। আমি এখন খাওয়াদাওয়া করছি।
সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শফিউলাহ বলেন, এই শিক্ষকের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলাম। সদর উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তেও ভার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তদন্ত এখনো কেন শেষ হয়নি বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি খোজনিয়ে দেখছি। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে পরিপত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।