প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১:৪৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
অসহায় গৌরদাসের পাশে মমতাজ ও ইয়াছিন’, ৩০ বছর পর দুঃখ ঘুচলো গৌরদাসের

মিজানুর রহমানঃ ৭৩ বছর বয়সী গৌরদাস।নেই স্ত্রী সন্তান।ভিক্ষা বৃত্তিকরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।৩০ বছর ধরে রাঁত কাটতো ভাগিনার দেয়া ঝুঁপড়িতে।সীমাহিন কষ্ট আর দুঃখ দূর্দশায় শেষ নেই তার।মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে ঘুরে বেড়াতেন।পাখির বাসার মতো একটি ঝুপড়ি ঘর।সেটিও থাকার যোগ্য নয়।শুধু নাম মাত্রই ঘর।ঘরের ভেতর রাঁত কাটানোর মতো নেই কোন বিছানা।ঘুমাতে হয় বাঁশের চাংড়াতে।বৃষ্টি হলে সেই ঝুপড়ি ঘরে থাকা যায় না। ফলে ঘুমোনোর জন্য আশ্রয় নিতে হয় অন্য কারও বারান্দায়।এমন পরিস্থিতে সরকারী ঘর পাওয়ার যোগ্য হয়ে আজও তার ভাগ্যে জোটেনি সরকারী ঘর।গৌরদাস লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা চাঁপারতল এলাকার বাসিন্দা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার এই দুঃখ দূর্দশার কথা ভাইরাল হলে এগিয়ে আসে কাকিনার স্বপ্নবাজ দুই তরুণ।নিজ অর্থায়নে করে দেন গৌরদাসের সেই স্বপ্নের ঘরটি।ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত তিনি।ঘর পেয়ে বেশ খুশিও।যেন স্বপ্নের মত লাগছে। এটাই এখন তার স্থায়ী ঠিকানা।` গৌরদাসের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া দুই তরুণ উদ্যেক্তা কোন জন প্রতিনিধি নয়!তারা সমাজ সেবক মমতাজ আলী ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য পদপ্রার্থী ইয়াছিন আলী। গৌরদাসের করুণ কাহিনী দেখে তারাই এগিয়ে আসে।
তরুণ উদ্যেক্তা মোঃ মমতাজ আলী শান্ত জানান,আমি কাকিনা কে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আমি আরামে থাকবো আমার এলাকার মানুষ না খেয়ে থাকবে এটা হবে না। সকল অসহায় মানুষের পাশে দাড়াব ইনশাল্লাহ। সকলে আমাকে দোয়া ও সহযোগীতা করবেন। আমি যাতে আগামীতে এলাকার জন্য ভালো কিছু করতে পারি।এলাকার উন্নয়নে আমি কাজ করে যাবো।'
মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ ইয়াছিন আলী বলেন,আমি এখন যেমন গরীব দুঃখী মানুষের পাশে আছি, আগামিতেও থাকবো। আপনারা আমার পাশে থাকবেন।' আমি যেন নির্বাচিত হয়ে আপনাদের পাশে থাকতে পারি।এ রকম অনেক গৌরদাস আছে তারা আজ অবহেলিত। তাদের পাশে থেকে যেন কাজ করতে পারি এটাই আমার প্রত্যাশা। একজন মানবিক জন প্রতিনিধি হতে চাই।'
আরিফ উদ্দিন জুয়েল জানান,গৌরদাসের এই করুন কাহিনী দেখে চোখে পানি চলে এসেছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে প্রচার করি। এতে সরকারী ভাবে কোন সাড়া-সহযোগীতা পাইনি। এগিয়ে আসে এই মমতাজ ও ইয়াছিন আলী নামে দুই তরুণ। তারা এই অসহায় মানুষটার পাশে দাড়িয়েছে।আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আগামীতেও যেন তারা এ ধরনের কাজ করে যেতে পারে।`
গৌরদাস বলেন, আমার আর দুঃখ নেই। অনেক কষ্টে কাটাইছি ৩০টি বছর।কত লাঞ্চনা-বঞ্চনার স্বীকার হয়েছি।এক বেলা খাইছি -আর এক বেলা নাই।কত মানুষের দারে দারে ঘুরছি কেউ কোন সহযোগীতা করে নাই। আমাকে তারা ঘর দিল। আমি দোয়া করি তারা যেন আমার মত অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে। "মমতাজ আর ইয়াছিন আমাক ঘর দিল।এখন খুব ভাল লাগছে।এতদিন কেউ খোঁজ নেয় নাই।
ঘরসহ ঘরের আসবাসপত্র পেয়ে ভীষন খুশি হয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে গৌরদাস বলেন, যারা মোক থাকার ঘর ও খাট,তোষক,গজি,মুশরি দিনেন সবাকে জীবনভর দোয়া করিম।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.