প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৩:৪১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৪, ২০২১, ৬:১০ অপরাহ্ণ
শরণখোলায় ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা প্রতিনিধিঃ দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। বাংলার স্বাধীনতা ও বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে মূল দল আওয়ামী লীগের জন্মের এক বছর আগেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গৌরব ও ঐতিহ্যের এ ছাত্র সংগঠন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি নানা অর্জন, আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পার করলো তিহাত্তর বছর। ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন এর নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’। পাকিস্তান আমলেই ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর নাম হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। স্বাধীনতার ছয় মাসের মধ্যে ভাঙ্গনেও পতিত হয় এই সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠালগ্নে নঈমউদ্দিন আহম্মেদকে আহ্বায়ক করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর আরমানিটোলায় ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলনে দবিরুল ইসলাম সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সাধারণ নির্বাচিত হন।
১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসাবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগে’র আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পরে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৫৪’র সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, ৬৬’র ৬ দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া,
৬ দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক শাসককে পদত্যাগে বাধ্য এবং বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা, ৭০’র নির্বাচনে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অসামান্য অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে সকাল ১০টায় উপজেলা সদরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোল শেষে ছাত্রলীগের জন্মদিনের বিশাল কেক কেটে সভার উদ্বোধন ঘোষনা করেন প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এমপি। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে শরণখোলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা সভাপতি-সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবাইকে ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করে নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এমপি বলেন, জাতির জনকের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সকল-সংগ্রামে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছে। ঐতিহ্যবাহী সেই সংগঠনের একজন সদস্য হতে পেরে আমি ধন্য। ছাত্রলীগ আমার গর্ব। বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সেই ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত এবং প্রধান বক্তৃতা ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা। উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম জীবনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-আহবায়ক শরীফ খায়রুল ইসলাম ও হাসান হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান স্বপন, জিয়াউল হাচান তেনজিন, আকন্দ ইব্রাহীম সুমন, ছাত্রলীগনেতা মাসুম খান, আসাদুজ্জামান আসাদ, আরাফাত মৃধা, মাসুদ মুন্সী, সুমন হাসান, মেহেদী হাসান শাওন প্রমুখ।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.