প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ২:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৪, ২০২১, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
তিস্তার চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ির কদর বাড়ছে

মিজানুর রহমানঃ লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে কৃষি পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির কদর দিন দিন বাড়ছে। ফলে কৃষকদের কৃষি পণ্য জেলা-উপজেলা-শহরের হাট-বাজারগুলোতে এনে বিক্রি করতে পারায় ভাল দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে সময়ের চাহিদা মেটাতে মানুষ একেক সময় একেক পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও লালমনিরহাট জেলায় ঘোড়ার গাড়ির তেমন দেখা মিলতো না। এ জেলায় একমাত্র ঐতিহ্যবাহী বাহন বলতে ছিল গরু ও মহিষের গাড়ি, যা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।
গরুর গাড়িকে নিয়ে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীরা কতইনা বন্দনা করেছেন। গরু ও মহিষের গাড়ির চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রস্তুত, ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল হাজারও মানুষ। বিগত কয়েক বছর থেকে লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যসহ মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হলেও ভ্যান সদৃশ গাড়ির সামনে ঘোড়া জুড়ে দিয়ে বাহনটি চলানো হচ্ছে। তিস্তা, ধরলা, রত্নাই নদীর চরসহ প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে রাস্তা ঘাটের অভাবে যেখানে কোনো যান্ত্রিক বাহন চলাচল করে না সেখানে এই ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা। জমি থেকে উৎপাদিত ফসল গোলায় নিয়ে যেতে জুড়ি নেই বাহনটির। দিন দিন ঘোড়ার গাড়ির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে ওই সব এলাকায়।
সরেজমিনে লালমনিরহাটের, তিস্তাপাড়ের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ক্ষেত থেকে কৃষি পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি পণ্য পরিবহনে অনেক ঝক্কি-ঝামেলার কারণে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ঘোড়ার গাড়ি। কৃষি পণ্য নিয়ে তিস্তা, ধরলা, রত্নাই নদী পার হয়ে আসছে ঘোড়ার গাড়ি কিংবা চর পেরিয়ে কেউবা কৃষি পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন তিস্তা, ধরলা, রত্নাই নদীর ওপারে লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম উপজেলায়।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালখাতা এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ঘোড়ার গাড়িতে কৃষি পণ্য, শাক, সবজি পরিবহন হতে দেখা যাচ্ছে। জানা যায়, গাড়ি তৈরির খরচ ও ঘোড়ার দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। গাড়ি চালানোর উপযোগী একটি ঘোড়া ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় বলে তারা জানান। এ পেশাকে পাকাপোক্ত করতে চরাঞ্চলে অনেকে ঘোড়া পালনও করছেন এখন।
ঘোড়ারগাড়ি চালক বাদল জানান, মালামাল বহন করে প্রতিদিন ৫শত থেকে ৭শত টাকা আয় হয়। ঘোড়ার খাদ্যের যোগান দিয়েও এতে তার সংসার চলে বেশ ভালোভাবেই। গরুর চেয়ে ঘোড়ার দাম কম এবং তেমন ঝুঁকি নেই বলেও জানান তিনি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.